‘ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন’—গোলাম পরওয়ার ও জামায়াতের বিবৃতি নিয়ে রাশেদ খানের প্রশ্ন
ছবিঃ সংগৃহীত
একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বৈঠক নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, আর তার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে দলটি। সেই বিবৃতি এবং গোলাম পরওয়ারের নিজের বক্তব্য—দুটোরই সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। গোলাম পরওয়ারকে উদ্দেশ করে তাঁর মন্তব্য, ‘মিয়া গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছে।’
বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। সেখানে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতের এই বিবৃতির ভাষা কি প্রমাণ করে না যে মিয়া গোলাম পরওয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন? তাঁর দাবি, বিবৃতির কোথাও বৈঠক না হওয়ার কথা বলা হয়নি, এমনকি ভারত শব্দটিও আনা হয়নি—কেন, সেটাও জানতে চান তিনি।
পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, ‘শোনেন, মিয়া গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছে, জামায়াত তাকে রক্ষা করতে গেলে পুরো দলকে এর দায় নিতে হবে। আর এখন থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিল্লি না ঢাকা স্লোগান দিলে জনগণ উত্তর দেবে মুনাফেক মুনাফেক! দিল্লি না ঢাকা…. মুনাফেক, মুনাফেক!’
গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার যেভাবে উত্তর দিয়েছেন, সেটি নিয়েও পোস্টে প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান।
তিনি লেখেন, ‘গতকাল নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, সাংবাদিক যে সময় বলছিল মিয়া গোলাম পরওয়ার ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন করতে চাইল, তিনি বা পাশ থেকে কেউ বললেন, না আজকে অন্য প্রশ্ন না! আবার তিনি তড়িঘড়ি করে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠকসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য চলে গেলেন! তিনি যদি ওই দিন অন্য প্রশ্ন না নেবেন, তবে কেন প্রথম প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিলেন?’
রাশেদ খানের ব্যাখ্যা, এর মূল কারণ হলো প্রথম প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার ইতস্তত বোধ করছিলেন যে টুপি মাথায় দিয়ে আর কত মিথ্যা বলা যায়। তিনি আরও লেখেন, তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন; জামায়াত ইসলামের কথা বলে, তাহলে তাদের ইসলাম মানে কি টুপি মাথায় দিয়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো—এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
এর আগের দিন, মঙ্গলবার, এক বিবৃতিতে একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিজের বৈঠক নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা খবরের প্রতিবাদ জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসব খবরকে জামায়াতে ইসলামীর সুনাম নষ্টের ষড়যন্ত্রমূলক চেষ্টা আখ্যা দিয়ে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনীতি করে এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন—গণমাধ্যমে আসা এমন খবরের প্রতিবাদ জানানো হয় সেখানে।
ওই বিবৃতিতে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সেক্রেটারি জেনারেলকে জড়িয়ে অসত্য তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ যাঁদের বিরুদ্ধে, তাঁদের উচিত অভিযোগের সত্যতা জাতির সামনে তুলে ধরা। অসত্য তথ্য দিয়ে গোলাম পরওয়ারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা সফল হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মিথ্যা প্রচারণা ও অপপ্রচার নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং বিভ্রান্ত না হতেও আহ্বান জানায় জামায়াত।
প্রেক্ষাপট
এনপিবি নিউজের ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশেদ খান দাবি করেছিলেন যে গত ১৬ অক্টোবর মাগরিবের পর রাজধানীর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতের এক উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার গোপন বৈঠক করেছেন। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন; তবে ভিডিও থেকে বৈঠকের স্থান, সময় বা উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: এনপিবি নিউজ, ২৭ অক্টোবর ২০২৬