মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.২ শতাংশে নামাল আইএমএফ
ছবিঃ সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে (এফওয়াই২৭) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরেক দফা কমিয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে দেওয়া ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে এবার তা ৩ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছে।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা উপলক্ষে মঙ্গলবার ব্যাংককে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও) প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। গত এপ্রিলের পূর্বাভাসে এ হার ধরা হয়েছিল ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩২, ৮ দশমিক ২৬ ও ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
আইএমএফের এই পূর্বাভাসের কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছিল বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি)।
বিশ্বব্যাংক গত ৬ অক্টোবর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে জ্বালানি ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও অব্যাহত মূল্যস্ফীতির চাপের কথা উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশের উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
তারও আগে, গত সেপ্টেম্বরে ম্যানিলাভিত্তিক এডিবি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে নামায়।
এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও), সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতের গুরুতর কাঠামোগত ঘাটতি, ব্যাংক খাতের সংকট ও অব্যাহত মূল্যস্ফীতির চাপ ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের পথে বাধা হয়ে থাকবে। চলতি অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।