সিদ্ধিরগঞ্জে পার্ক করা বাসে আগুন, ১৮ জনের নামে মামলা
ছবিঃ সংগৃহীত
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। সড়কের ধারে রাখা একটি বাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার খবরের সত্যতা জানিয়েছেন।
মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোদনাইল এসও ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে সিদ্ধিরগঞ্জ-চাষাঢ়া সড়কসংলগ্ন এলাকায়।
মামলার বাদী ও বাসটির মালিক মো. আল-আমিন জানান, ‘নীলাচল’ পরিবহনের একটি বাস তিনি ব্যবসায়িক অংশীদার আতিকুর রহমানের সঙ্গে মিলে চালান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অন্য দিনের মতোই চালক ও হেলপার গোদনাইল এসও ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে সড়কের ধারে বাসটি পার্ক করে চলে যান। তখন বাসটির দরজায় তালা দেওয়া ছিল, জানালাও বন্ধ ছিল।
বাদী অভিযোগ করেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে পরদিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তিনি খবর পান যে একদল লোক বাসটিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে এবং এরপর তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, বাসটি পোড়া অবস্থায় আছে।
এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাদী স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছেন যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতী লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লিখিত লিটনের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা এ ঘটনায় জড়িত। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে হামলাকারীরা সড়কে অবস্থান নেন ও বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পরে একপর্যায়ে আগুন লাগান বাসটিতে।
আগুনে বাসটির প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন বাদী।
লিটনের পাশাপাশি এজাহারে নাম থাকা ১৮ জনের মধ্যে আছেন আসাদুল্লাহ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লিখিত মো. শহীদুল্লাহ, জামান, রাকিব, সিয়াম হোসেন, নাতিয়া মুন্না, পাভেল, আনোয়ার হোসেন, মোস্তফা হোসেন, জসিম উদ্দিন, সাইফুদ্দীন, আব্দুল, মাসুম বিল্লাহ পৃথিবী, আবুল কালাম আবু, আরিফ হোসেন ও স্বপন। এ ছাড়া আরও ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্তরা ঘটনার সময় যেসব স্লোগান দেন, তার মধ্যে ছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগ সত্য কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুড়ে যাওয়া বাসটি জব্দ করে এবং থানায় নিয়ে যায়।
মামলা প্রসঙ্গে পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।’