দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে পরাজিত শক্তি: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
১৯৭১ সালে যে শক্তি পরাজিত হয়েছিল, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেনি—এ কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ঠিক তেমনিভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তিরও সময় লাগছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আস্থা রাখতে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ১৯৭১ ও ২০২৪-এর পরাজিত শক্তির মধ্যে ঐক্য নতুন কোনো বিষয় নয়; এ ধরনের ঐক্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবারই দেখা গেছে। দেশের নানা স্থানে কিছু ঘটনা ঘটছে, যার উদ্দেশ্য মাত্র ৭ মাস বয়সী একটি সরকারকে অস্থিতিশীল করা। ওই ঐক্যবদ্ধ শক্তিই বাংলাদেশকে আজ অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ার মিলনায়তনে গতকাল বুধবার রাতে জেলা বিএনপি সাংগঠনিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা কুষ্টিয়া। এখানকার রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় আরও সতর্ক থাকতে হবে আমাদের। কচুপাতার পানির মতো সংগঠন বিএনপি নয়। রাজপথে বিএনপির রাজনৈতিক উপস্থিতির জানান দিতে হবে কুষ্টিয়ায়।
দলীয় নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতে হবে প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বড় বাজারে। এর উদ্দেশ্য, ‘গুপ্ত ও সুপ্ত সংগঠন’ যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কুষ্টিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলতে না পারে।
দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারাও সভায় কথা বলেন। দলের অভ্যন্তরে থাকা অনৈক্য ও বিভেদের বিষয়টি তুলে ধরে তাঁরা সাংগঠনিকভাবে তা কাটিয়ে উঠতে আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এবং বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ড।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব উদ্দিন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব প্রভা চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারও সভায় হাজির ছিলেন। তাঁদের পাশাপাশি ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা।