জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন: আমন্ত্রণ পেয়েও আসেননি বিরোধীদলীয় নেতা, ক্ষোভ প্রধানমন্ত্রীর
ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ” উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সময়ে আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নিশ্চয়ই বর্তমান বিরোধী দল ও জনগণের কাছে গিয়েছে। আমরাও গিয়েছি। জনগণই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর কারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। সে হিসেবে তারা হয়তো বিএনপিকে সরকারে বসিয়েছে। আবার বিরোধী দলকেও সেভাবে সমর্থন দিয়েছে। আমরা মনে করি আজকের অনুষ্ঠানে না এসে বিরোধী দল শহীদ পরিবারগুলোকে অবজ্ঞা করেছে।’
বর্তমান বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা অবশ্যই সরকারের বিরোধিতা করবে। তবে তা হওয়া উচিত গঠনমূলক।’ বিরোধী দল জুলাইকে ধারণ করে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সে কারণেই আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও বিরোধীদলীয় নেতা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাদের যদি আমাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বসায় আপত্তি থাকে, চাইলে তো শহীদ পরিবারের সঙ্গেও বসতে পারতেন। অথচ তারা ভোট দেওয়ার কারণেই তো আমরা সরকারে, আর তারা বিরোধী দলে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান; প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
প্রেক্ষাপট
জাগো নিউজের ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণকাজ শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সংখ্যার হিসাব
জাগো নিউজের ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবরের ওই প্রতিবেদনে স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণব্যয় উল্লেখ করা হয়েছিল ৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
কালের কণ্ঠের ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলা হয়, স্মৃতিস্তম্ভটিতে ৮১৩ জন শহীদের নাম রয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন | প্রেক্ষাপট সূত্র: জাগো নিউজ, ১২ অক্টোবর ২০২৫; কালের কণ্ঠ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬