ছবিঃ সংগৃহীত
মস্কো ইউরোপের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে তেমন যুদ্ধ বাধলে রাশিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত—বললেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
খবরটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের এই বক্তব্য এসেছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর), নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপের পরে। ফোনে কথা বলার পর তিনি জানান, ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে তাঁর সমর্থন আছে।
সেই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দেন পুতিন: ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য রাশিয়া তৈরি। উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে যুদ্ধ যদি এড়ানোর উপায় না থাকে, তবে কোনো পক্ষই জিতবে না। পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা নিতে পারে।’
২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও পুতিন প্রায় একই অবস্থান জানিয়েছিলেন। তখন তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছি না। তবে ইউরোপ যদি হঠাৎ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা শুরু করে, তাহলে আমরা এখনই প্রস্তুত।’
বৃহস্পতিবার পুতিন আরও বলেন, রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার যে লক্ষ্য পশ্চিমারা ঠিক করেছিল, তা অর্জনে তারা ব্যর্থ। রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না’। ইউরোপকে তিনি কথাটি ‘ভুলে না যাওয়ার’ আহ্বানও জানান।
এর আগে পুতিন ফোনে কথা বলেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে। রুশ নেতা জানান, ফোনালাপের উদ্যোগ এসেছিল ইউরোপীয় নেতাদের দিক থেকেই। আলোচনাটিকে তিনি সঠিক পথে এগোনোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
সূত্র: টেলিগ্রাফ
প্রেক্ষাপট
নরওয়ে সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত যৌথ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্টাব ও স্টোর হেলসিঙ্কি থেকে ২৭ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ২০ অক্টোবর অসলোর বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এবং ইউক্রেনের সঙ্গে পরামর্শ করে এ আলাপ হয়; বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই নেতা নিজ নিজ দেশের হয়ে কথা বলেছেন, পুরো ইউরোপের পক্ষে নয়।
কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ওই মন্তব্য পুতিন করেছিলেন ২ ডিসেম্বর, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: নরওয়ে সরকার (regjeringen.no), ২৭ অক্টোবর ২০২৬; কিয়েভ ইনডিপেনডেন্ট, ২ ডিসেম্বর ২০২৫