কুনমিং হুয়াশিয়া আই হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ‘গ্রিন চ্যানেল’: অগ্রাধিকারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট, দোভাষী ও দেশে ফিরে ফলো-আপ সেবা
ছবিঃ সংগৃহীত
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য প্রথমবারের মতো চালু হলো বিশেষায়িত সেবাব্যবস্থা ‘গ্রিন চ্যানেল’। চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য চীনে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের চিকিৎসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করাই এর উদ্দেশ্য। এর আওতায় রোগীরা চীনে যাওয়ার আগেই চিকিৎসা-পরামর্শ পাবেন এবং তাঁদের নথিপত্র পর্যালোচনা করা হবে। হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট, আলাদা আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দোভাষীর সহায়তা এবং দেশে ফেরার পরও ফলো-আপ চিকিৎসার সুযোগ থাকছে।
চীনের কুনমিং শহরের কুনমিং হুয়াশিয়া আই হাসপাতালে আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটির উদ্বোধন হয়। ‘গ্রিন চ্যানেল’-এর ফলক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু। ‘হুয়াশিয়া অপথ্যালমোলজি ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনও তিনি একই দিনে করেন।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান এবং হুয়াশিয়া চক্ষু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ঝিইয়ং অনুষ্ঠানে ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য চীনে রওনা হওয়ার আগেই বাংলাদেশি রোগীরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে এবং চিকিৎসার নথি পর্যালোচনা করাতে পারবেন। হাসপাতালে পৌঁছালে তাঁদের জন্য থাকবে আলাদা আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট। ভাষার বাধা দূর করতে দোভাষী দেওয়া হবে, আর চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশে ফেরার পরও মিলবে ফলো-আপ সেবা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি এবং চক্ষু চিকিৎসায় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের কথা তুলে ধরেন কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু। বাংলাদেশি রোগীদের আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার সঙ্গে রোগীর নিরাপত্তা, সেবার স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়েও তিনি বিশেষ জোর দেন।
তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশি রোগীরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসা পান, চিকিৎসার খরচে যেন স্বচ্ছতা থাকে এবং রোগীর মর্যাদা যেন সমুন্নত থাকে—বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রধান প্রত্যাশা এটাই।
বাংলাদেশি রোগীদের চীনে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতেও এগিয়ে আসতে হুয়াশিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি চক্ষু চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, টেলি-কনসালটেশন এবং বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন কনসাল জেনারেল। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দেশেই উন্নত চক্ষু চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু হওয়ায় চীনে চিকিৎসা নিতে চান এমন বাংলাদেশি চক্ষু রোগীরা পরামর্শ থেকে শুরু করে চিকিৎসা-পরবর্তী ফলো-আপ পর্যন্ত একটি সমন্বিত সেবা পাওয়ার সুযোগ পেলেন। চক্ষু চিকিৎসায় দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রেক্ষাপট
চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশি রোগীদের কুনমিং যাত্রা শুরু হয় গত বছরের মার্চে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জানায়, বাংলাদেশি রোগীদের প্রথম দলটি কুনমিংয়ে পৌঁছায়; ১৪ জনের ওই দলে জন্মগত হৃদ্রোগে আক্রান্ত তিন শিশুও ছিল, যাদের ফুওয়াই ইউনান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক (দ্য ডেইলি স্টার), ১৩ মার্চ ২০২৫