১০ মিনিটে ডেলিভারির যুগেও আইফোনের জন্য ফুটপাতে রাতভর অপেক্ষা কেন?
ছবিঃ সংগৃহীত
আজ ভোরে ভারতের বড় শহরগুলোর রাস্তায় চোখে পড়ল এমন এক দৃশ্য, যা ডিজিটাল সুবিধার এই যুগে একেবারেই অন্য রকম। দিল্লির কনট প্লেস, মুম্বাইয়ের বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্স কিংবা বেঙ্গালুরুর ব্রিগেড রোড—অ্যাপল স্টোরের বাইরের ফুটপাতে রাত পার করেছেন শত শত মানুষ; কারও গা খালি, কেউ চাদর মুড়ি দিয়ে। অথচ অ্যাপলের ওয়েবসাইটে নতুন আইফোনের অর্ডার দিতে লাগে মাত্র ৯০ সেকেন্ড, এরপর সোফায় বসে নিশ্চিন্তে অপেক্ষা করলেই চলে। বিগবাস্কেট বা ব্লিনকিটের মতো কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তো আইফোন দরজায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ১০ মিনিটেই। কেবল একটি নতুন ফোন হাতে পাওয়ার জন্য এত কষ্ট কেন, সে প্রশ্ন উঠছে; তবে ভক্তরা একে ভোগান্তি হিসেবে দেখেন না, তাদের কাছে এটি উদযাপনেরই অংশ।
বেঙ্গালুরুর ফুটপাতে আজ ভোর ৫টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন রাহুল নামের এক তরুণ; ক্লান্তির কোনো ছাপ তখন তার চোখেমুখে ছিল না। চারপাশে হরিয়ানা, দিল্লি ও মুম্বাই থেকে আসা উৎসুক মানুষের ভিড়। তার মাঝে দাঁড়িয়েই সহজ গলায় তিনি জানান, এ অপেক্ষাকে তিনি সাধারণ কেনাকাটা মনে করেন না, তার কাছে এটি একটি বার্ষিক উৎসব। আইফোন উন্মোচনের দিনে প্রতিবছরই ভোর হওয়ার আগে তিনি এভাবে চলে আসেন। প্রায় একই ছবি দেখা গেছে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের মুম্বাইতেও। সেখানে আরেক ক্রেতা নাসিক থেকে রাতের ট্রেনে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন রাত ১০টা থেকে। নির্ধারিত স্লটে সকালে ফোন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত, তা তিনি জানেন; তবু রাত জেগেছেন প্রথম সারিতে জায়গা পাকা করার জন্য। এই আইফোনপ্রেমী গত বছর ব্যবহার করেছেন ১৭ প্রো ম্যাক্স, এবার বাড়ি ফিরবেন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে।
সাংহাইয়ে স্ক্যালপারদের দাপট
ভারতের মহানগরগুলোর মধ্যেই এই উন্মাদনা আটকে নেই। সেপ্টেম্বরের এই নির্দিষ্ট দিনটিতে আন্তর্জাতিক বাজারগুলোতেও প্রায় একই ছবি দেখা যায়। একইভাবে লাইন পড়ে চীন, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বড় শহরগুলোতে। চীনের সাংহাইয়ের দৃশ্যপট অবশ্য খানিকটা ভিন্ন, আর তা অনেক বেশি বাণিজ্যিক। অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর খোলার এক সপ্তাহ আগেই সেখানে প্রি-সেল শুরু হয় জেডি ডটকম, তাওবাও ও অ্যাপলের নিজস্ব ওয়েবসাইটে; সব স্টক ফুরিয়ে যায় মাত্র এক মিনিটে। অ্যাপলের সার্ভারও ট্রাফিকের চাপে ভেঙে পড়ে। ফলে আউটলেটের সামনে মুক্তির দিনে যারা লাইন দিয়েছিলেন, সরাসরি ফোন কেনার সুযোগ তাদের হয়নি; ভবিষ্যতে ফোন হাতে পাওয়ার আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতেই তারা এসেছিলেন। পুরো বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ সেখানে কালোবাজারি বা স্ক্যালপারদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের হাতে। অটোমেটেড স্ক্রিপ্ট বা বট কাজে লাগিয়ে তারা একসঙ্গে বিপুল ফোন বুক করে ফেলে; আর শুধু একটি বুকিং স্লটের জন্যই সাধারণ ক্রেতার কাছ থেকে বাড়তি ফি নেয় ২৯৯ থেকে ৫৯৯ ইউয়ান পর্যন্ত। এতে বিশেষ আকর্ষণীয় ‘বার্গান্ডি প্রো ম্যাক্স’ মডেলের পুনর্বিক্রয়মূল্য প্রকৃত বাজারদরের তুলনায় ১৬ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হয়ে যায়।
পরিকল্পিত সংকট
বাইরে থেকে দেখলে গোটা ব্যাপারটিকে ভোক্তাদের নিছক অসংলগ্নতা বা বোকামি বলে মনে হতে পারে। তবে গভীর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এটি আদৌ আকস্মিক কিছু নয়; বড় অংশই তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিমভাবে ও সুপরিকল্পিতভাবে। অ্যাপল এবার মূল ‘আইফোন ১৮’ মডেলটিকে একরকম স্থগিত রেখেছে, আর গ্রাহকদের সব আকর্ষণ টেনে নিয়ে গেছে প্রিমিয়াম ‘প্রো’ সিরিজের দিকে। পাশাপাশি বেশি স্টোরেজের ও জনপ্রিয় নতুন রঙের মডেলগুলোর সরবরাহ শুরুতে ইচ্ছা করেই সীমিত রাখা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নতুন ফোন বাজারে আসার পর পর্যাপ্ত সরবরাহ সাধারণত আসে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পরে। তার মানে, আজকের হাহাকার ও বিশৃঙ্খলাকে কোনো উৎপাদন-ঘাটতি বলা যায় না; এটি বরং কৌশলগতভাবে তৈরি করা পরিবেশ। অ্যাপল একদিকে মুক্তির সময় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জন্ম দেয় কৃত্রিম সংকট ও তীব্র কৌতূহলের; অন্যদিকে প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সরবরাহ আটকে দেয় স্ক্যালপাররা। এর ফলে সাধারণ ক্রেতারা বাড়তি অর্থ গুনতে বাধ্য হন—শুধু সবার আগে ফোনটি ছুঁয়ে দেখার তাড়নায়।
এই কৌশলের একটি নাম আছে অর্থনীতিবিদদের কাছে—লাইনের মাধ্যমে গুণমানের প্রদর্শন। তারা মনে করেন, দোকানের বাইরে হাজারো মানুষের দীর্ঘ লাইন থেকে যে সামাজিক প্রচার তৈরি হয়, বড় বড় বিলবোর্ড টাঙাতে কোটি টাকা খরচ করেও তা পাওয়া সম্ভব নয়। অপেক্ষার মনোবিজ্ঞান নিয়ে হওয়া গবেষণা দেখিয়েছে, কোনো জিনিস পাওয়ার জন্য মানুষকে যত বেশি অপেক্ষায় রাখা হয়, তার চোখে সেটির মনস্তাত্ত্বিক মূল্য ততই বেড়ে যায়। অর্থাৎ ভেতরের জিনিসটি যে সত্যিই পাওয়ার মতো মূল্যবান, দীর্ঘ লাইনই তার প্রমাণ। নিখুঁত নাটকের মতো করে সাজানো হয় গোটা আয়োজন—গুঞ্জন তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন থেকে, উত্তেজনা আনে কাউন্টডাউন, স্টোরের দরজা খুলতেই করতালির গর্জন এনে দেয় তৃপ্তি, আর সবশেষে কাঙ্ক্ষিত সমাপ্তি টানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আনবক্সিং ভিডিও।
মর্যাদা আর আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন
দীর্ঘ এই সারিকে অবশ্য শুধু সরবরাহ বা বাজার-কৌশলের বিষয় বলা চলে না; মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্নও এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ থরস্টেইন ভেবলেন ১৮৯৯ সালে তার ‘লেজার ক্লাস’ তত্ত্বে বলেছিলেন, সমাজে একদল মানুষ থাকেন, যারা পণ্য কেনেন প্রয়োজনের জন্য নয়; তারা কেনেন এমন জিনিস, যাতে অহেতুক প্রচুর অর্থ ও সময় ঢালা যায়, আর যা সমাজে তাদের উঁচু মর্যাদা দেখানোর কাজে সহায়ক হয়। এ ধরনের পণ্য অর্থনীতিতে ‘ভেবলেন গুডস’ নামে পরিচিত—দাম যত বাড়ে, নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছে এর চাহিদাও বাড়ে ততটাই। আধুনিক এই প্রবণতাকে ‘দৃশ্যমান অপেক্ষা’ বলেছেন শিক্ষাবিদ এবং ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. অভিনব পি ত্রিপাঠী। তিনি মনে করেন, জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে যখন নিজেদের অবস্থান সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন, তখন সেটি আসলে এক ধরনের আধুনিক সামাজিক প্রদর্শনী। একসময় যে সামাজিক প্রভাব দেখাতে হতো বংশপরম্পরায় পাওয়া বিপুল সম্পদ দিয়ে, এখন একটি স্মার্টফোনের লাইনে দাঁড়িয়ে খানিকটা সময় খরচ করেই যেকোনো সাধারণ মানুষ তা অর্জন করতে পারছেন।
এ কারণে অ্যাপল স্টোরের সামনের দীর্ঘ লাইনকে এখন আর কেবল ফোন কেনার উপায় বলা যায় না; লাইনটি নিজেই একটি পণ্য হয়ে উঠেছে। এর দৃশ্যমান আবেদন চমৎকার, সামাজিক মাধ্যমে বলার মতো গল্প এটি তৈরি করে, আর সাধারণ কেনাকাটাকে বদলে দেয় ডিজিটালি লাভজনক কনটেন্টে। একশ কোটিরও বেশি মানুষের হাতে বিশ্বজুড়ে আইফোন রয়েছে, তাই শুধু নতুন আইফোন থাকা এখন আর বিশেষ কিছু নয়। তবে মুক্তির প্রথম দিনেই লাইনে দাঁড়ানো এবং অপেক্ষার কষ্টকে কনটেন্ট বানিয়ে ফোন কেনা—এটি এখনো নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়।
ব্র্যান্ডের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের দিকটিও এর পাশাপাশি উপেক্ষা করা যায় না। কয়েক বছর আগে বিবিসির অর্থায়নে একটি স্নায়ুবিজ্ঞান পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছিল, যা বিতর্কিত; তাতে দেখা যায়, ব্র্যান্ডের নতুন পণ্যের ছবি কট্টর অ্যাপলভক্তদের সামনে ধরলে তাদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশ উদ্দীপিত হয় ঠিক সেভাবে, যেভাবে নিজের ধর্মীয় প্রতীক দেখে একজন ধর্মপ্রাণ অনুসারী আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। গবেষণাপদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে আন্তর্জাতিক বাজার জরিপের তথ্য হলো—অ্যাপলের গ্রাহক ধরে রাখার হার স্মার্টফোনের জগতে অন্য যেকোনো ব্র্যান্ডের তুলনায় বহু গুণ বেশি। আইফোন ব্যবহারকারীদের অধিকাংশের স্বীকারোক্তি—যুগান্তকারী পরিবর্তন নতুন মডেলে না এলেও তারা অন্য ব্র্যান্ডে চলে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। সাধারণ ব্র্যান্ড-পছন্দের পর্যায়ে এটি এখন আর নেই, হয়ে উঠেছে তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ।
বদলাচ্ছে ফোন বদলের অভ্যাস
বিশ্বজুড়ে সামগ্রিক ছবিটা কিন্তু এর ঠিক বিপরীত। তথ্য অনুযায়ী, ফোন বদলানোর আগে মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ বলছে, একটি স্মার্টফোন ব্যবহারের গড় মেয়াদ বিশ্বব্যাপী এখন প্রায় চার বছরে পৌঁছাচ্ছে; ২০২৬ ও ২০২৭ সালজুড়ে এ মেয়াদ আরও বাড়বে। চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় ফোনের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো; ফলে ঘন ঘন ফোন বদলানো বন্ধ করেছেন সাধারণ মানুষও। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের দিকে ফোন বদলানো হতো গড়ে ২.৪ বছর পরপর। ২০২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে সে মেয়াদ হয়েছে প্রায় ৩.৬ বছর—অর্থাৎ একটি ফোন মানুষ এখন ব্যবহার করছেন প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি সময়।
গ্রাহকেরা দীর্ঘ মেয়াদে ফোন ব্যবহার করছেন—এই প্রবণতার জবাব হিসেবে বার্ষিক লিজিং বা সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করেছে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই চেষ্টারই অংশ ভারতে স্যামসাংয়ের ‘গ্যালাক্সি ফরএভার’ কিংবা অ্যাপলের ক্লার্না-ভিত্তিক লিজিং প্রোগ্রাম। উদ্দেশ্য হলো, প্রতিবছর মানুষ নিজে থেকে ফোন না বদলালেও কিস্তির প্রলোভন দেখিয়ে সেই বার্ষিক চাহিদাকে কৃত্রিমভাবে টিকিয়ে রাখা।
সুতরাং স্টোরের বাইরে ক্যাম্প করে যারা সারা রাত কাটান, তারা সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের প্রতিনিধি নন। মূলধারার বাইরের ছোট ও নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী তারা; এতে আছেন অন্ধ অনুরাগী, রিসেলার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা; আছে উচ্চ-মধ্যবিত্তের এমন এক অংশও, যারা ফোন কেনাকে দেখেন একটি ব্যক্তিগত বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে। বেঙ্গালুরুতে লাইনে দাঁড়ানো তরুণের কাছে বিষয়টি ‘উৎসবের মতো’ মনে হওয়াটা সত্যি; তবে এ মনোভাব কেবল সেই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর, যারা নতুন ফোন কেনাকে এখনো বার্ষিক প্রার্থনার মতো পবিত্র বলে মনে করেন।
তাই ‘মানুষ কেন প্রতিবছর ফোন আপগ্রেড করবে?’—প্রশ্নটি কাকে করা হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করছে এর উত্তর। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তরটি হলো, ফোন প্রতিবছর বদলানোর কোনো দরকারই নেই; বাস্তবেও অধিকাংশ মানুষ তা করছেন না। পকেটে এখন যে ফোনটি আছে, সেটিই তিন থেকে চার বছর অনায়াসে ভালো সেবা দিতে পারে। তবে দীর্ঘ লাইনে যারা দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের উত্তরের সঙ্গে প্রযুক্তির কোনো সম্পর্কই নেই। এটি তাদের কাছে প্রথা, নিজস্বতা, কোনো কমিউনিটির অংশ হয়ে ওঠা এবং সবার আগে কিছু পাওয়ার মানসিক আনন্দ। ফোনের ভেতরে থাকা নতুন এ২০ প্রো চিপসেট সত্যিকারের কোনো পরিবর্তন জীবনে আনল কি না, সে প্রশ্নের সঙ্গে এর দূরতম সম্পর্কও নেই।
কিস্তির ফাঁদ
সবশেষে বাকি থাকে আর্থিক প্রশ্নটি; লাইনের রোমাঞ্চকর পরিবেশে সেটি কেউ মুখে আনতে চান না। নতুন আইফোন ১৮ প্রোর প্রারম্ভিক মূল্য ভারতে ১,৬৪,৯০০ টাকা; শীর্ষ মডেল ২ টেরাবাইটের প্রো ম্যাক্সের দাম গিয়ে ঠেকে প্রায় ৩,১৪,৯০০ টাকায়। যে চাকরিজীবী মাসে ১ লাখ টাকা আয় করেন, এই একটি ফোন কেনা তার জন্য টানা তিন মাসের পুরো বেতন ঢেলে দেওয়ার সমান। অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ সুনীসা আরিন্টা মনে করেন, সহজ ইএমআই বা কিস্তির সুবিধাই মূলত বিশ্বজুড়ে এমন উন্মাদনার পেছনে কাজ করছে। বড় অঙ্কের খরচ ছোট ছোট মাসিক কিস্তিতে ভাগ করে নিলে পণ্যের দাম এক টাকাও কমে না; পিছিয়ে যায় শুধু পকেট থেকে টাকা বেরোনোর সময়টা।