‘বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দর’: সৌদি স্থাপনায় হামলায় হুতিদের ঘোষিত কৌশল
ছবিঃ সংগৃহীত
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করবে। মনে করা হচ্ছে, সেই ঘোষিত কৌশল মেনেই এবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নিজেদের কৌশলকে গোষ্ঠীটি বলছে ‘অবরোধের বদলে অবরোধ’ এবং ‘বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দর’।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হুতিদের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে কোনো বিবৃতি দেননি। তবে গোষ্ঠীটি এর আগে জানিয়েছিল, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।
হুতিরা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি বিমান হামলা এবং ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাব দিতেই এ কৌশল নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তারা যে নীতি অনুসরণ করছে, তা হলো প্রতিপক্ষের অবরোধের জবাবে অবরোধ এবং বিমানবন্দরে হামলার জবাবে বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা।
এই পাল্টা হামলার কৌশলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলো। রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর তেল স্থাপনা গোষ্ঠীটির লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রধান বিমান চলাচলকেন্দ্র হলো রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
রিয়াদের বিমানবন্দর ও আরামকোর তেল স্থাপনাকে হুতিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখে। গোষ্ঠীটির বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, এসব স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তারা সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং ইয়েমেনে দেশটির সামরিক অভিযানের জবাব দিতে চায়।
অন্যদিকে সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হুতিদের হামলার জবাব দেওয়া হবে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়েমেনে দেশটি একাধিক বিমান হামলা চালানোর পরও সৌদি ভূখণ্ডের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার সক্ষমতা হুতিরা ধরে রেখেছে।
এমন অবস্থায় সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঝুঁকি বাড়ছে। তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হলে বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি খাত ও বিমান চলাচলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
তবে হুতিরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। সে কারণে গোষ্ঠীটি ওই হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, এমনটি নিশ্চিত করার মতো তথ্য রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।