
শুল্ক টানাপোড়েনের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ‘ভালো হয়েছে’, জানালেন কার্নি
ছবিঃ সংগৃহীত
কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক শুল্ক আরোপ ঘিরে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানালেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে তাঁর আলোচনা ‘ভালো হয়েছে’। রোববার তিনি এ কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় কার্নি জানান, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সাম্প্রতিক গঠনমূলক আলোচনা সর্বশেষ বৈঠকে আরও এগিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী কয়েক সপ্তাহ আমাদের দুই দেশের প্রতিনিধিদল কাজ করবে।’
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী—দুই ধরনের দেশের পণ্যেই শুল্ক বসিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে বড় পরিবর্তন এনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার কানাডাও বারবার তাঁর শুল্কনীতির নিশানা হয়েছে।
গত আগস্টে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায়। এরপর কানাডার বিভিন্ন পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এর কিছু শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে বড় ইস্যু। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়াতেও ভূমিকা রেখেছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি।
আগস্টে আলোচনা ভাঙার পর আরোপিত শুল্কের আওতায় আসে হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
জবাবে কানাডাও সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসায়। এর প্রতিক্রিয়ায় কিছু পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, শিগগিরই কানাডার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে, যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
রোববার কার্নির সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্পও। আইওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কানাডার সঙ্গে ‘খুব ভালো একটি চুক্তির রূপরেখা’ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তির ধারণা পেয়েছি, যা আমাদের কৃষক ও দেশের জন্য দারুণ হবে এবং কানাডার জন্যও ভালো হবে।’
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিতে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টি থাকবে। পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছিল।
এদিকে ট্রাম্পের অনিশ্চিত ও ঘন ঘন বদলানো বাণিজ্যনীতির কারণে অন্য মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছে কানাডা।
গত শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডা নতুন এক অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে, যার আওতায় কানাডা ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এ পদবির ব্যবহার নিয়ে ইইউর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।
প্রেক্ষাপট
নিউইয়র্ক টাইমসের ২৫ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগের শুক্রবার রাতে কার্নি আলোচনা থেকে সরে আসেন। পরের সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ি, ট্রাক, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বেড়ে ৫০ শতাংশ হবে।
ভারী ট্রাকের শুল্ক, তৃতীয় দেশের পণ্যে মার্কিন শুল্কের সঙ্গে মিল রাখার শর্ত এবং চুক্তির নিশ্চয়তা নিয়ে মতভেদে আলোচনা ভেস্তে যায় — নিউইয়র্ক টাইমস ২৫ আগস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তৃতায় কার্নি কানাডাকে ইইউর ‘সহযোগী সদস্য’ করার ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবে সমর্থন দেন; প্রস্তাবটি কার্যকর হতে সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদন লাগবে — প্যারামিটার ডট আইও ১৭ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
আরবিসি ইকোনমিকসের ১৯ ফেব্রুয়ারির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডার মোট রপ্তানির গড়ে ৭১ শতাংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৭৫ শতাংশ, আর ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে তা নেমে আসে ৬৭ শতাংশে।
এক নজরে
কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্পটি ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন বাতিল করে। ১৮ আগস্ট ট্রাম্প লেখেন, পাইপলাইনটি ‘কবর থেকে জেগে উঠতে পারে’। পরে কানাডার এক কর্মকর্তা বলেন, শুল্ক নিয়ে যে প্রস্তাব এসেছে তাতে প্রকল্পটি টেকসই করা যায় না — নিউইয়র্ক টাইমস ২৫ আগস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাসস
প্রেক্ষাপট সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস (দ্য ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারারে প্রকাশিত), ২৫ আগস্ট ২০২৬; আরবিসি ইকোনমিকস, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; প্যারামিটার ডট আইও, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
