ছবিঃ সংগৃহীত
এক সপ্তাহ না পেরোতেই ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, সোমবার রাতে ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরুসু’ সোমবার মধ্যরাত বা মঙ্গলবার ভোরে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও প্রতিবেশী তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
এল নিনোর প্রভাবে এ বছর ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে; বদলে যাচ্ছে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনও।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ‘ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করার সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওঙ্গোল শহরের কাছে নেল্লোর ও নারসাপুরের মাঝামাঝি উপকূল দিয়ে ঝড়টি স্থলভাগে ঢুকতে পারে।
এর আগে গত বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। তাতে ভারী বৃষ্টি হয় এবং অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়।
বাতাসের গতির হিসাবে মুরুসু আগের ঝড়ের চেয়ে দুর্বল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এটি আবারও ভারী বৃষ্টি ঝরাতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, প্রবল বাতাসে খড়ের ছাউনির ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, উড়ে যেতে পারে ঘরের চাল, উপড়ে পড়তে পারে গাছপালা। মাঠের ফসল, বাগান ও ফলের বাগানও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
প্রেক্ষাপট
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-কে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছিল। ঝড়টি ২৮ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানে এবং তখন বাতাসের পূর্বাভাস ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, দমকা হাওয়া ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত — রয়টার্সের এ প্রতিবেদন দ্য স্টার ২৮ অক্টোবর প্রকাশ করেছে।
অর্ণব আঘাত হানার আগের দিন অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা থেকে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঝড়ের সম্ভাব্য পথে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের বাস ছিল — আল জাজিরা ২৮ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তাদের হিসাবে, অর্ণবে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৮০টি ঘর ধ্বংস হয় — রয়টার্সের এ প্রতিবেদন দ্য স্টার ২৮ অক্টোবর প্রকাশ করেছে।
এক নজরে
লাইভচেন্নাইয়ের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মুরাসু’ নামটি ভারতের প্রস্তাব করা। তামিল ভাষায় এটি একধরনের ঢোলের নাম। এ অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ সমন্বয় করে আইএমডি।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাসস
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য স্টার (রয়টার্স), ২৮ অক্টোবর ২০২৬; আল জাজিরা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; লাইভচেন্নাই, ২২ অক্টোবর ২০২৬

