
কোভিডের অভিজ্ঞতা টেনেছে রাজনীতিতে: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী রেকর্ড ১২৫ স্বাস্থ্য পেশাজীবী
ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্তত ১২৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রার্থী হয়েছেন—সংখ্যাটিকে রেকর্ড বলা যায়। অথচ দেশটির রাজনীতিতে এসব পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ঐতিহাসিকভাবেই তুলনামূলক কম।
সিএনএনের এক প্রতিবেদন বলছে, চিকিৎসা খাতের অনেককে রাজনীতিতে টেনে আনার পেছনে বড় প্রভাবক কোভিড-১৯ মহামারি। মহামারির সময় স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব আর সরকারি নীতিনির্ধারণে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের ভূমিকা কতটা জরুরি—এসবই তাঁদের নতুন করে রাজনীতিমুখী করেছে।
মহামারির শুরুর দিকে নানা দিক থেকে সম্মান পেয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু সময় গড়াতে তাঁদের অনেকে পড়েন কাজের চাপ, ব্যক্তিগত বিপর্যয় আর রাজনৈতিক বিরোধের মুখে। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা নিয়ে অসন্তোষের জেরে কোনো কোনো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি ও বাধাও সামলাতে হয়েছে। কয়েকজন প্রার্থী বলছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত ও রাজনীতির সঙ্গে স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানচর্চার সম্পর্ক কত গভীর, মহামারির সময়েই তাঁরা তা উপলব্ধি করেন।
সিনেট নির্বাচনে মিশিগানের ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আবদুল আল-সায়েদ। নিজের চিকিৎসক জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, অসুস্থ বা যন্ত্রণায় থাকা মানুষের পাশে বসে তাঁর কথা শোনা এবং নিজের জ্ঞান দিয়ে তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা—চিকিৎসাবিজ্ঞান এটাই শেখায়। রাজনীতিতেও একই দায়িত্ব পালন করতে হয়।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এবার প্রার্থী হয়েছেন স্বাস্থ্য খাতের পরিচিত কয়েকজন। ওহাইওতে গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী প্রতিরোধমূলক ওষুধ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যামি অ্যাক্টন, যিনি রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের মেয়াদে আলোচিত জনস্বাস্থ্য পরিচালক ছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষ বায়োটেক খাতের কোটিপতি রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী।
ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর পদে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জাভিয়ার বেসেরা; প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে তিনি স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) সচিব ছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান মিডিয়া ব্যক্তিত্ব স্টিভ হিলটন।
সাউথ ক্যারোলাইনায় সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্র্যামের বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ও ডেমোক্র্যাট ড. অ্যানি অ্যান্ড্রুজ।
স্বাস্থ্য খাতে ব্যবসার অভিজ্ঞতা আছে, এমন মানুষও এবার নির্বাচনের মাঠে। নিউ হ্যাম্পশায়ারে গভর্নর পদে প্রার্থী স্বাস্থ্য খাতবিষয়ক আইনজীবী ও ডেমোক্র্যাট সিন্দে ওয়ার্মিংটন। জর্জিয়ায় গভর্নর পদে লড়ছেন জ্যাকসন হেলথকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন।
রাটগার্স ইউনিভার্সিটির ‘ইগলটন সেন্টার অন দ্য আমেরিকান গভর্নর’-এর পরিচালক ও ইতিহাসবিদ ড. ক্রিস্টোফার শিল্ডস বলেন, রাজনীতিতে এমন চিত্র তিনি আগে কখনো দেখেননি। তাঁর ধারণা, রাজনীতি আর বিজ্ঞানের যোগসূত্র বরাবরই খানিকটা দুর্বল ছিল।
মার্কিন কংগ্রেসের বর্তমান সদস্যদের ১০ শতাংশেরও কম চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য বা প্রকৌশলে ডিগ্রিধারী। অথচ আইনের ডিগ্রি আছে সিনেটরদের ৪৭ শতাংশ ও প্রতিনিধি পরিষদের ৩১ শতাংশ সদস্যের। সিনেটে এখন চিকিৎসা খাতের চারজন সদস্য আছেন—সবাই রিপাবলিকান, সবাই পেশায় চিকিৎসক। তাঁরা হলেন ওয়াইওমিংয়ের জন বারাসো, লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি, ক্যানসাসের রজার মার্শাল ও কেন্টাকির র্যান্ড পল।
প্রতিনিধি পরিষদে আছেন ১৭ জন চিকিৎসক, চারজন ডেন্টিস্ট, দুজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন করে নার্স প্র্যাকটিশনার, অপটোমেট্রিস্ট ও পুনর্বাসন থেরাপিস্ট। রাজ্য পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান খাতের পেশাজীবীদের উপস্থিতি আরও কম। রাটগার্স ইউনিভার্সিটির ‘সায়েন্টিস্টস ইন স্টেট পলিটিক্স ডাটাবেস’-এর বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্য আইনপ্রণেতাদের মাত্র ৩ শতাংশের চিকিৎসা, বিজ্ঞান বা প্রকৌশলের পেশাগত পটভূমি ছিল, যা আগের বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চিকিৎসক গভর্নর একজনই—হাওয়াইয়ের জশ গ্রিন। আর কোনো গভর্নরের জনস্বাস্থ্যে ডিগ্রি নেই। দেশটির ইতিহাসে কোনো চিকিৎসক প্রেসিডেন্টও হননি। নবম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসন অবশ্য মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু পড়ার খরচ জোগাতে না পেরে পরে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের পেশাগত পটভূমি আছে এমন ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনে নামার প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেয় ‘৩১৪ অ্যাকশন’ নামের একটি সংস্থা। এর নির্বাহী পরিচালক এরিক পোলিয়াক জানান, এ বছর প্রার্থী হতে আগ্রহীদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; ৭০০টির বেশি আবেদন পেয়েছেন তাঁরা। অন্য নির্বাচনী চক্রে সাধারণত এ সংখ্যা থাকে ২০০-এর কাছাকাছি।
আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও (এএমএ) অনেক দিন ধরে চিকিৎসকদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। পেশাজীবীদের নির্বাচনে উৎসাহ দিতে সংগঠনটির দুটি রাজনৈতিক শিক্ষা কর্মসূচি আছে—প্রার্থী কর্মশালা ও ক্যাম্পেইন স্কুল। সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও জন বারাসো এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অমি বেরা ও মারিয়ানেট মিলার-মিকস এসব কর্মসূচির সাবেক শিক্ষার্থী।
রাজনীতিতে আসার আগ্রহ বেড়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা ড. ক্রিস্টিন হুক জানান, বছরখানেক আগে থেকেই মানুষ তাঁর কাছে নির্বাচনে দাঁড়ানো নিয়ে পরামর্শ চাইতে শুরু করে। ২০২৪ সালে টেক্সাসের ২১তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার ভোটে নেমে হেরেছিলেন তিনি; এবারও লড়ছেন একই আসনে।
হুকের ভাষ্য, সারা দেশ থেকে অনেকে নির্বাচনে নামতে চেয়েছেন, জানতে চেয়েছেন তাঁর নির্বাচনী অভিজ্ঞতা। সরকারি চাকরি ছেড়ে আসা বহু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার তাগিদেই তাঁদের অনেকে রাজনীতিতে আসছেন।
হুক নিজে প্রার্থী হয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বিজ্ঞানবিরোধী নীতির বিরোধিতা থেকে। তাঁর অভিযোগ, হাজার হাজার সরকারি চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীকে চাকরি থেকে সরানো হয়েছে, কোটি কোটি ডলারের গবেষণা তহবিল কাটা হয়েছে, মুছে ফেলা হয়েছে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নানা তথ্যভান্ডার ও ওয়েবসাইট। সুপেয় পানিতে ফ্লোরাইড মেশানো ও শিশুদের টিকাদানের মতো দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য কর্মসূচিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা এখন সাধারণ মার্কিন ভোটারদের বড় উদ্বেগগুলোর একটি। বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, জ্বালানি তেলের দামের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়েও তাঁরা চিন্তিত। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’-এর কারণে আরও অন্তত ১ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারাতে পারেন। দেশটির ইতিহাসে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা কমানোর ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বড় ধাক্কা হতে পারে।
জরিপগুলোতে স্বাস্থ্য খাতের প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ ধরা পড়েছে। সাবেক এইচএইচএস সচিব জাভিয়ার বেসেরাও বর্তমান নেতৃত্বের বিজ্ঞানবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, দেশের সেরা বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সরিয়ে দেওয়া বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সাইক্লোন বা মহামারির মতো দুর্যোগ সামলানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মানুষের তৈরি নতুন সংকট যোগ হলে মার্কিন জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়বে।
এবার স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে কোভিড মহামারির প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কাউন্টি অ্যান্ড সিটি হেলথ অফিশিয়ালসের প্রধান নির্বাহী লরি ট্রেমেল ফ্রিম্যান বলেন, মহামারির সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা সামলে ওঠা বা তা থেকে শিক্ষা নেওয়া তাঁদের অনেককে আরও শক্ত করেছে।
জনস্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারা সাধারণত প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে কাজ করেন। মহামারি তাঁদের তুলে আনে টেলিভিশনের পর্দায়। কারও কারও জন্য সেই পরিচিতি বয়ে আনে মৃত্যুর হুমকি ও বিদ্বেষ। এমন পরিস্থিতিতে রেকর্ডসংখ্যক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দেন। আবার কেউ কেউ নিজ এলাকার মানুষের কাছে নায়ক হয়ে ওঠেন।
ওহাইওর সাবেক জনস্বাস্থ্য পরিচালক অ্যামি অ্যাক্টনের অভিজ্ঞতাও ছিল দুই রকম। তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হয়েছে, তবে অঙ্গরাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছেন তার চেয়ে বেশি। গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত ব্রিফিং দেখতেন অনেকে। মহামারির সময় তাঁর ছবি ছড়িয়ে পড়ে গেঞ্জি ও দেয়ালচিত্রে; টিশার্ট ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও তাঁর প্রতি সমর্থন দেখা যায়। ডেইটন ডেইলি নিউজ তাঁকে মহামারির সময় ওহাইওর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ বলে বর্ণনা করেছিল। ২০২০ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে তাঁকে এমন নেতা বলা হয়, যাঁকে সবাই পেতে চাইত।
অ্যাক্টনের ভাষ্য, বিদ্বেষের চেয়ে অঙ্গরাজ্যের মানুষের ভালোবাসার শক্তি ছিল অনেক বেশি। গভর্নর ডিওয়াইনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে সম্মানের। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁরা জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তবে মহামারির সময়ের টিকাদান নীতি, মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা এবং স্কুল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমর্থন পাওয়া স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের জন্য সহজ হবে না। রিপাবলিকান রাজনীতিকদের পরামর্শক উডরো জনস্টন বলেন, কোভিডের পর বিশেষ করে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে চিকিৎসা পেশার প্রতি বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, সরকারি বিধিনিষেধ ও লকডাউনের সময় তাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল বা ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
নানা জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটরা বিজ্ঞানীদের বেশি বিশ্বাস করেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ অবশ্য বলছে, মহামারির সময় বিজ্ঞানীদের প্রতি মানুষের আস্থা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা বেড়েছে। ২০২৬ সালের আরেকটি জরিপে উঠে এসেছে, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চেয়ে বিজ্ঞানীরা জনস্বার্থে কাজ করবেন—এমন বিশ্বাস সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশি।
ফ্রিম্যানের মতে, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাজের বড় অংশই হলো নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধা পেরিয়ে সমাধান বাস্তবায়ন। কিন্তু এর জন্য কতটা রাজনৈতিক দক্ষতা লাগে, তা অনেকেই বোঝেন না। স্বাস্থ্য খাতের অভিজ্ঞ মানুষ রাজনীতিতে এলে কেবল স্বাস্থ্যসেবায় নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও উপকার হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কারণ, সুস্থতা আর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
উডরো জনস্টনের মতে, রিপাবলিকান প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের অভিজ্ঞতার গুরুত্ব আছে। চিকিৎসা বা জনস্বাস্থ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে সম্প্রতি তিনি সহায়তা করছেন বলে জানান। এ ধরনের প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ভোটারের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ গড়তে পারেন। তাঁর ভাষায়, কখনো কখনো বিজ্ঞ মানুষেরা আরেকজন বিজ্ঞ মানুষকে পছন্দ করেন।
ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার শিল্ডস মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিজ্ঞানীদের কারিগরি দক্ষতা এখন সময়ের দাবি। স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার মতো সমস্যার পাশাপাশি সামনে আছে আরও জটিল প্রশ্ন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কীভাবে নিরাপদ করা যায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায়, জলবায়ু সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়। এসব সমস্যার সমাধানে নীতিনির্ধারণের জায়গায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের উপস্থিতি দরকার।
অ্যামি অ্যাক্টনের মতে, উচ্চপর্যায়ের সরকারি পদে স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের ভূমিকা কেবল একজন চিকিৎসকের রোগী দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সামগ্রিকভাবে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও তা কাজে আসে। চিকিৎসা ও প্রযুক্তির উন্নতির বাইরেও মানুষের গড় আয়ু ও জীবনমান বাড়াতে সরকারি উদ্যোগের বড় অবদান রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ খাবার, শিশুশ্রমবিরোধী আইন, সবার জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষা আর সড়ক নিরাপত্তা আইনের উদাহরণ টেনে অ্যাক্টন বলেন, মানুষের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে সরকারই। কোভিডের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি বুঝেছেন, গভর্নরের কাজও অনেকটা চিকিৎসকের মতো। চিকিৎসক যেমন সব রোগীর জন্য কাজ করেন, গভর্নরের দায়িত্বও তেমনি মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ফলে স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের রাজনীতিতে আসা নিছক প্রার্থী হওয়ার ঘটনা নয়। তাঁদের অনেকের কাছে এটি বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য ও মানুষের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জায়গায় সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ। মহামারির অভিজ্ঞতা সেই প্রয়োজন তাঁদের সামনে আরও স্পষ্ট করেছে।
প্রেক্ষাপট
আল জাজিরার ২৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের ৩৫টিতে ভোট হবে। ফ্লোরিডা ও ওহাইওর বিশেষ নির্বাচন এই ৩৫টির মধ্যে ধরা আছে।
খালিজ টাইমসের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে হোয়াইট হাউস, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট তিনটিই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের যেকোনোটির নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে।
সংখ্যার হিসাব
খালিজ টাইমসের ১৯ অক্টোবরের হিসাবে, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে।
গভর্নর নির্বাচনের সংখ্যা নিয়ে দুই সূত্রে ভিন্ন তথ্য এসেছে। আল জাজিরা ২৬ অক্টোবর ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের কথা জানিয়েছে, আর খালিজ টাইমস ১৯ অক্টোবর ৩৯টি অঙ্গরাজ্যের কথা উল্লেখ করেছে।
এক নজরে
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিওসি ২৬ আগস্ট জানিয়েছে, সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আসনে রিপাবলিকান মনোনয়ন পেয়েছেন তাঁর বোন ডারলিন গ্রাহাম। ভাইয়ের মৃত্যুর দুই দিন পর তাঁকে বাকি মেয়াদের জন্য সিনেটর নিয়োগ দেওয়া হয়। নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজ।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: আল জাজিরা, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; খালিজ টাইমস, ১৯ অক্টোবর ২০২৬; ডব্লিউটিওসি, ২৬ আগস্ট ২০২৬
