
ভূমিকম্পের প্রস্তুতি: পুরোনো ভবন শনাক্ত ও বিল্ডিং কোড মানার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবিঃ সংগৃহীত
ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন খুঁজে বের করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি সামলাতে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সামর্থ্য বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে এক সভা হয়। সেখানেই এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি জানিয়েছেন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার ওপর সভায় জোর দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হলে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জাম পর্যাপ্ত রাখা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ভূমিকম্প নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রেক্ষাপট
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর মাত্রা ৫.৫ বলেছে এবং উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে বলে জানিয়েছে — বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সেদিনই এসব তথ্য প্রকাশ করে।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ২৯ নভেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পে ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন শতাধিক মানুষ এবং রাজউক এলাকায় প্রায় ৩০০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংখ্যার হিসাব
রাজউকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে — দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২৯ নভেম্বর ২০২৫ এ তথ্য জানিয়েছে।
রাজউকের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের জরিপে ৩ হাজার ২৫২টি ভবনের দ্রুত চাক্ষুষ মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক প্রকৌশল মূল্যায়ন হওয়া ৫৭৯টি ভবনের ৪২টিকে অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয় — প্রথম আলো ২০২৩ সালের ১১ মার্চ এ তথ্য প্রকাশ করে।
এক নজরে
দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ২৯ নভেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত বাংলাদেশ জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিএনবিসি-২০২০) গেজেট আকারে প্রকাশের পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। ভবন, অগ্নি ও ভূমিকম্প-সহনশীলতা এবং নির্মাণসামগ্রীর মান তদারকির জন্য এই বিধিমালায় বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) গঠনের বিধান রয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কর্তৃপক্ষটি গঠিত হয়নি।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২১ নভেম্বর ২০২৫; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ২৯ নভেম্বর ২০২৫; প্রথম আলো, ১১ মার্চ ২০২৩
