ছবিঃ সংগৃহীত
ওল্ড ট্রাফোর্ডে রোমার বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে দলটি, আর তাতে চাপে থাকা কোচ মাইকেল ক্যারিক আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই মাতিয়াস সুলে ও ডনি ম্যালেনের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা। তাতে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিক সমর্থকেরা।
ব্রুনো ফার্নান্দেসের পেনাল্টি গোলের পর মাতেউস কুনহার জোড়া গোলে ইউনাইটেডের জয় নিশ্চিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচ জয়হীন থাকার ধারাও থামল দলটির।
ক্যারিক বলেন, “এই মাঠ অবিশ্বাস্য সব ঘটনা ঘটায়, জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করে। বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে কিছুটা কথা বলেছিলাম, এই মাঠ কীভাবে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। কখনও কখনও একটি মুহূর্তই যথেষ্ট। আজ ঠিক সেটাই হয়েছে। ছেলেরা প্রতিটি ছোট সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে। শেষ পর্যন্ত দারুণ জয় উপহার পেয়েছি।”
প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের নিষ্প্রাণ খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, ক্যারিককে আরও কিছু সময় দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দিয়েছে।
তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে আগের চারবারের হারের স্মৃতি ভুলতে পারেনি রোমা। চ্যাম্পিয়নস লিগে আরও একটি ম্যাচ নাটকীয়ভাবে হাতছাড়া করল তারা।
গত মাসেও জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির দল রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ আট মিনিটে তিন গোল খেয়ে হেরেছিল ৪-৩ ব্যবধানে।
গাসপেরিনি বলেন, “একটি ম্যাচ ৯০ মিনিটের। দ্বিতীয়ার্ধে তারা নিজেদের খেলার গতি বাড়িয়েছে। তবে স্কোরলাইন ধরে রাখতে আমাদের আরও কিছু করা উচিত ছিল।”
শনিবার চেলসির কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের অপ্রয়োজনীয় লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডারকে একাদশের বাইরে রাখেন ক্যারিক। তাতে বিশেষ লাভ হয়নি; প্রথম ২০ মিনিটেই ইউনাইটেডের অগোছালো রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করে দেয় রোমা।
১১ মিনিটে রদ্রিগো মোরার পাস পেয়ে অনেকটা ফাঁকা জায়গা পান সুলে, এরপর সেন্নে ল্যামেন্সকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান।
কিছুক্ষণ পর আবার উন্মুক্ত হয়ে পড়ে ইউনাইটেডের বাঁ দিকের রক্ষণ। সুলের শট আয়ডেন হেভেনের বাড়ানো হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় রোমা, স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যালেন।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সমর্থকেরা মাঠে টেনিস বল ছুড়ে মারায় কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এ সময় ইউনাইটেডের মার্কিন মালিক গ্লেজার পরিবারকে ক্লাব বিক্রি করে দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন সমর্থকেরা।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আরেকটি ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। ৭ কোটি পাউন্ডে কেনা কার্লোস বালেবা রোমার বক্সে ঢোকার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ৬০ মিনিটের কিছু আগে ভাগ্য সহায় হয় ক্যারিকের দলের—জিয়ানলুকা মানচিনির বিপক্ষে পেনাল্টি আদায় করে নেন কুনহা।
ফার্নান্দেসের প্রথম পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন রোমার তৃতীয় পছন্দের গোলরক্ষক ডেভিস ভাসকেজ। কিন্তু রোমার খেলোয়াড়েরা আগেভাগে বক্সে ঢুকে পড়ায় আবার শট নেওয়ার সুযোগ পায় ইউনাইটেড। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি অধিনায়ক ফার্নান্দেস; জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুটা করেন তিনি।
কয়েক সেকেন্ড পর কুনহার পাস থেকে ব্রায়ান এমবেউমোর শট দুই পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে ফিরে আসে।
খেলা শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে রোমা নিজেই ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরার সুযোগ করে দেয়। লিওনার্দো বালেরদি ফাঁকা জায়গায় পা চালাতে ব্যর্থ হলে সহজেই বল জালে ঠেলে দেন কুনহা।
এর তিন মিনিট পর ভাসকেজকে পরাস্ত করে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, তারপর গ্যালারিতে সমর্থকদের সঙ্গে উদ্যাপন করতে ছুটে যান। সেই উদ্যাপনের জন্য চড়া মূল্য দিতে হয় তাঁকে। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন কুনহা, পরে যোগ করা সময়ে বিপজ্জনকভাবে প্রতিপক্ষের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন।
১০ জনের দল নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখে ইউনাইটেড। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও কোমোর কাছে টানা দুই হারের পর এ জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দলটি।
এই জয় ক্যারিকের জন্য মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হবে, নাকি নিছক সাময়িক স্বস্তি—তা সময়ই বলে দেবে।
প্রেক্ষাপট
ইএসপিএনের ২২ মের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুবেন আমোরিম বরখাস্ত হওয়ার পর জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নেওয়া মাইকেল ক্যারিক দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগে তোলার পর দুই বছরের চুক্তিতে স্থায়ী প্রধান কোচ হন।
আইরিশ এক্সামিনারের ৩১ অক্টোবরের হিসাবে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচ জয়হীন থাকা ছিল ১৯৮৮ সালের নভেম্বরের পর ইউনাইটেডের সবচেয়ে খারাপ ধারা।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: ইএসপিএন, ২২ মে ২০২৬; আইরিশ এক্সামিনার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

