ছবিঃ সংগৃহীত
বক্সিং সিরিজ ‘আশিতা নো জো’ দিয়ে খ্যাতি পাওয়া জাপানের কিংবদন্তি মাঙ্গা শিল্পী তেৎসুয়া চিবা মারা গেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
মঙ্গলবার তাঁর প্রকাশকেরা মৃত্যুর খবর জানান। টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
চিবার মাঙ্গায় নানা খেলার তরুণ ক্রীড়াবিদদের শারীরিক ও মানসিক বেড়ে ওঠার গল্প যেমন আছে, তেমনি আছে যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য, হতাশা, আনন্দ আর আশার ছবি। গলফ, বক্সিং ও জাপানি মার্শাল আর্ট কেন্দো ছিল তাঁর কাজের প্রিয় বিষয়।
১৯৬০ থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত প্রকাশিত ‘আশিতা নো জো’র কেন্দ্রীয় চরিত্র এক সমস্যাগ্রস্ত তরুণ। কিশোর সংশোধনাগারে বক্সিং শেখার পর সে পেশাদার বক্সিংয়ে নামে এবং একসময় শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়ে।
জাপানের সংস্কৃতিতে সিরিজটির প্রভাব ছিল গভীর। গল্পে জোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মারা গেলে ভক্তরা তার জন্য শেষকৃত্যের আয়োজন পর্যন্ত করেছিলেন।
বয়স্ক ভক্তদের অনেকে এখনো সিরিজটির সংলাপ মুখস্থ বলে দিতে পারেন। এ থেকে জনপ্রিয় অ্যানিমে সিরিজ, চলচ্চিত্র, ভিডিও গেম, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন আর মঞ্চনাটকও তৈরি হয়েছে।
সাত দশকের কর্মজীবনে চিবা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন জাপান কার্টুনিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের।
শিল্প, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাপানের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘অর্ডার অব কালচার’সহ বেশ কয়েকটি সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
জাপানের বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কোদাংশা গত ৪৬ বছর ধরে নবীন মাঙ্গা শিল্পীদের ‘তেৎসুয়া চিবা পুরস্কার’ দিয়ে আসছে।
এক বিবৃতিতে কোদাংশা জানায়, পেশাদার শিল্পী হয়ে ওঠার পথে অসংখ্য নবীন মাঙ্গা শিল্পী চিবার উপদেশ মনে রেখেছেন, তাঁদের অনেকে এখনো এ পেশায় সক্রিয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়, মাঙ্গা জগতে চিবার অসামান্য অবদানের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
শান্তির প্রতি নিজের অঙ্গীকার নিয়ে কথা বলতে চিবা প্রায়ই গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনে কাটানো শৈশবের কথাও বলতেন তিনি। যুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর দেশে ফিরে আসেন চিবা।
প্রেক্ষাপট
‘আশিতা নো জো’ কোদানশার সাপ্তাহিক শোনেন ম্যাগাজিনে ১৯৬৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৩ সালের ১৩ মে পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়; কাহিনি লেখেন আসাও তাকামোরি, ছবি আঁকেন চিবা — উইকিপিডিয়ায় এ তথ্য রয়েছে।
২০২৪ সালে চিবা জাপানের ‘অর্ডার অব কালচার’ পান, মাঙ্গা শিল্পীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মাননা পেয়েছেন — অ্যানিমেক্লিক ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
এক নজরে
জিজি প্রেসের ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্কৃতি দিবসে ইম্পেরিয়াল প্যালেসে সম্রাট নারুহিতো চিবাসহ সাতজনের হাতে অর্ডার অব কালচারের পদক তুলে দেন।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাসস
প্রেক্ষাপট সূত্র: উইকিপিডিয়া (আশিতা নো জো), ২৭ অক্টোবর ২০২৬ দেখা; অ্যানিমেক্লিক, ২৬ অক্টোবর ২০২৪; নিপ্পন ডট কম (জিজি প্রেস), ৩ নভেম্বর ২০২৪