ডিজিটাল নিরাপত্তা থেকে লিঙ্গসমতা: গাইবান্ধায় তরুণদের নিয়ে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সংলাপ
ছবিঃ সংগৃহীত
লিঙ্গবৈষম্য দূর করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম নিয়ে সচেতনতা আর জনস্বার্থে নীতিনির্ধারণী উদ্যোগে তরুণরা যাতে আরও দক্ষ হয়ে ওঠে—এ লক্ষ্য সামনে রেখে গাইবান্ধায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আলোচনা সভা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শহরের সার্কুলার রোডে ‘দেশি ভোজ’-এর কনফারেন্স রুমে সভাটি আয়োজন করে সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন। ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন।
স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সংগঠনের উপদেষ্টা, তরুণ প্রতিনিধি, শিক্ষক ও সাংবাদিকেরা এতে অংশ নেন। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল লিঙ্গ নিয়ে প্রচলিত ধারণা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সাক্ষরতা এবং জনস্বার্থে নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ।
সভায় ছিলেন সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর খলিলুর রহমান, সংগঠনটির উপদেষ্টা আফরোজা বেগম লুপু ও এবিএম জিল্লুর রহমান, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন শাহ এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সুজন মিয়া।
উপস্থিত অন্যদের মধ্যে ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মেহেদী হাসান, প্রকল্প কর্মকর্তা আতহার মিহদা তুবা, হিসাব কর্মকর্তা রঞ্জন দেবনাথ, স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক ও অতিথিরা।
লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য আর সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, নারী-পুরুষের সমান অধিকার, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সাইবার হয়রানি ঠেকানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য চেনার ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়। দায়িত্ব নিয়ে গণমাধ্যম ব্যবহার, তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল জগতে নিরাপদে চলাফেরার বিষয়ে তরুণদের সচেতন করার কথাও উঠে আসে।
তরুণদের নেতৃত্ব গড়ে তোলা, স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের যুক্ত করা এবং যুব সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্থানীয় সরকারের যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনের কথাও বলা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মত, তরুণদের মতামত ও অভিজ্ঞতা গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা হলে স্থানীয় নানা সামাজিক সমস্যার সমাধান আর ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়ানো, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, লিঙ্গসমতার সমাজ গড়া এবং জনসচেতনতামূলক কাজে সক্রিয় থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় আলোচনায়। এমন উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যুব সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াবে বলে আশা করা হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের এই সভা তরুণদের সচেতনতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং স্থানীয় উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন একটি যুব নেতৃত্বাধীন, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম, সামাজিক উদ্ভাবন এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গড়তে কাজ করছে সংগঠনটি।
জেলার প্রেক্ষিত
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলার জনসংখ্যা ২৫ লাখ ৬২ হাজার ২৩৩, যা ২০১১ সালের শুমারিতে ছিল ২৩ লাখ ৭৯ হাজার ২৫৫ — সিটিপপুলেশন ডটডিইতে সংকলিত শুমারির তথ্যে এ হিসাব পাওয়া যায়।
একই সূত্র অনুযায়ী, জেলাটি সদর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ — এই ৭টি উপজেলায় বিভক্ত।
এক নজরে
যুগান্তরে ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পটি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: সিটিপপুলেশন ডটডিই, তারিখ উল্লেখ নেই; যুগান্তর, ৩০ আগস্ট ২০২৬