বিক্রি শুরুর পরপরই আইফোন ডুয়োর পর্দায় দাগ-ফাটলের অভিযোগ, ত্রুটি মানল অ্যাপল
ছবিঃ সংগৃহীত
অ্যাপলের ফোল্ডেবল আইফোন ‘আইফোন ডুয়ো’র পর্দায় দাগ পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ব্যবহারকারীরা। অ্যাপলও স্বীকার করেছে, কিছু আইফোন ডুয়োতে সমস্যাটি দেখা দিয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিশ্বজুড়ে ফোনটির বিক্রি শুরু হয়। তারপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রেডিটে পর্দায় দাগ আর ফাটলের অভিযোগ আসতে থাকে। ফোনটির দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৬ টাকা।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে বড় কোনো সমস্যা আছে কি না, তা বলার মতো যথেষ্ট ঘটনা এখনো পাওয়া যায়নি।
কিছু ডিভাইসের পর্দায় যে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, অ্যাপল তা নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘আইফোন ডুয়োর অল্পসংখ্যক ইউনিটের ভেতরের স্ক্রিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি আমরা জানি। কোনো ব্যবহারকারী তাঁর আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনে ত্রুটি পেলে বদলে নেওয়ার জন্য অ্যাপলকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।’
অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যবহারকারী রেডিটে লিখেছেন, হাতে পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ফোনে দাগ পড়ে। ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমি এক বন্ধুকে ফোনটি দেখাচ্ছিলাম। সেটি খুলতে গিয়ে স্ক্রিনের নিচে সমস্যা চোখে পড়ে। স্ক্রিনের এক পাশজুড়ে সাদা আলোর একটি রেখা দেখা যায়।’
ওই ব্যবহারকারী আরও লেখেন, ‘আমি ফোনটি খুলতে থাকলে ফাটার মতো স্পষ্ট শব্দ শুনতে পাই। এরপর স্ক্রিনটি ভেঙে যায়।’
তিনি জানান, স্থানীয় অ্যাপল স্টোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ফোন বদলে দিয়েছে। তবে তাঁর দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি দ্য গার্ডিয়ান।
অস্ট্রেলিয়ার আরেক ব্যবহারকারীও ফোনে ‘প্রায় ফাটার মতো শব্দ’ শোনার কথা জানিয়েছেন। এরপর তাঁর ফোনের পর্দাতেও একই ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়।
বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে একই রকম অভিযোগ আসার কথা বলা হয়েছে। অ্যাপলের ধারণা, যেসব ফোনে সমস্যা, সেগুলো ব্যবহারের অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রুটি দেখাচ্ছে। তবে প্রথম দিকের ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের সময়ে এটিই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে আলোচিত পণ্য উন্মোচন। গত সেপ্টেম্বরে টিম কুকের জায়গায় দায়িত্ব নেন টার্নাস। অ্যাপলের ভাষায়, আইফোন ডুয়োর চাহিদা পৌঁছেছে ‘অসাধারণ’ পর্যায়ে।
তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক ডেইলির খবর, ফোনটির সব ইউনিট বিক্রি হয়ে গেছে। পরের চালান আগামী জানুয়ারির আগে আসার সম্ভাবনা কম। অ্যাপলের প্রধান ডিভাইস নির্মাতা ফক্সকনের সদর দপ্তরও তাইওয়ানে।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য ও বিশ্লেষণ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোর মতে, পর্দার এই সমস্যা কতটা গুরুতর, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তিনি বলেন, ‘নতুন কোনো পণ্য বাজারে এলে এ ধরনের ঘটনা বেশ সাধারণ।’
২০১৯ সালে স্যামসাংয়ের একই রকম সমস্যার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়। ২০১৯ সালে প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড নিয়ে স্যামসাং সমস্যায় পড়েছিল। তবে সেই অভিজ্ঞতা এটাও দেখিয়েছে, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পদক্ষেপ নিলে একটি নতুন পণ্যশ্রেণির ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাপল জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক সমস্যায় পড়েছেন, তাঁরা ফোন বদলে নেওয়ার অনুরোধ জানাতে পারেন। এটিই প্রথম সঠিক পদক্ষেপ।’
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএসের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড জানান, আইফোন ডুয়োর পর্দার সমস্যা নিয়ে তিনি সাবধানী অবস্থানে আছেন। ফোনটিতে বড় পরিসরে সমস্যা থাকার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত মেলেনি বলেও জানান তিনি।
প্রেক্ষাপট
ওপিবির ৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল সেদিন আইফোন ডুও উন্মোচন করে, যার বিক্রি শুরুর তারিখ ধরা হয় ২৩ অক্টোবর; ফোনটির বাইরের পর্দা ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি, ভেতরের ভাঁজখোলা পর্দা ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি।
ম্যাকটেকের ২০ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল ১ সেপ্টেম্বর থেকে জন টারনাসকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে ঘোষণা করে; টিম কুক হন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান।
এক নজরে
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিলে স্যামসাং প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন গ্যালাক্সি ফোল্ডের যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত বিক্রি স্থগিত করেছিল, কারণ পর্যালোচকদের দেওয়া অন্তত চারটি ইউনিটে পর্দা ভাঙা ও ফুলে ওঠার সমস্যা দেখা দেয়।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: ওপিবি, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ম্যাকটেক, ২০ এপ্রিল ২০২৬; এনবিসি নিউজ, এপ্রিল ২০১৯