এরশাদের আমলেও আদর্শ থেকে সরেননি গিয়াস কামাল চৌধুরী: রিজভী
ছবিঃ সংগৃহীত
বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীকে সাহস, নিষ্ঠা আর আদর্শে অটল থাকার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর মতে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়কার ভূমিকা ও সংবাদ পরিবেশনের জন্যই মানুষের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন গিয়াস কামাল চৌধুরী।
গিয়াস কামাল চৌধুরীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্মরণসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।
ছাত্রজীবনের স্মৃতি টেনে রিজভী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে গিয়াস কামাল চৌধুরীর খবর আর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় থাকতেন তাঁরা। বিশেষ করে ১৯৮৭ ও ১৯৮৮ সালের আন্দোলনের সময় বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি আর আন্দোলনের কর্মসূচি জানা যেত।
রিজভীর ভাষ্য, সে সময় গিয়াস কামাল চৌধুরী মানুষের কাছে বিশেষ পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর সংবাদ পরিবেশন ও বক্তব্য আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, আর তাঁকে গ্রেফতারের খবরে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ন্যায়নীতি ও আদর্শে অবিচল মানুষ ছিলেন গিয়াস কামাল চৌধুরী। তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের সময়ে নানাভাবে তাঁকে প্রভাবিত করার বা কিনে নেওয়ার চেষ্টা হলেও তিনি নিজের আদর্শ থেকে সরে যাননি।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।
কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন মানুষের সাংবাদিক। মানুষের প্রতি মমতা, দেশপ্রেম আর মানবিক মূল্যবোধের জন্য সবাই তাঁকে মনে রাখবে।
ব্যক্তিগত স্বার্থে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়েননি গিয়াস কামাল চৌধুরী। বরং বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আর প্রয়োজনে খোঁজ নেওয়াই ছিল তাঁর স্বভাব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেন, প্রখ্যাত এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য ও সৎ সাংবাদিককে হারিয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ যেমন একজন দেশবরেণ্য ও সৎ সাংবাদিক হারিয়েছে, তেমনি তিনি নিজে হারিয়েছেন সারা জীবনের বন্ধুকে।
সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি ও গীতিকার নাহিদ নজরুল।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাসস