কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ১৭ নভেম্বর
ছবিঃ সংগৃহীত
আগামী ১৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ ঠিক করেছেন আদালত। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে।
প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বুধবার দিন নির্ধারিত ছিল ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে। তবে এদিন তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে বিচারক ১৭ নভেম্বরকে পরবর্তী তারিখ হিসেবে ধার্য করেন।
কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয় গত বছরের ১৮ জুলাই; বাদী হন দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন আনেন, উপেক্ষা করেন অনুমোদিত ডিপিপি। তাঁরা ৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি সম্পন্ন করেন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন না নিয়েই।
অভিযোগের আরেক অংশে বলা হয়, ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে নিরাপত্তা জামানত কেটে রেখে তা এফডিআর হিসেবে ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল; পরে সেই অর্থ ঠিকাদারকে ঋণ দিতে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ অনুমোদন করা হয়। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় গ্যারান্টার হয়ে সরকারের ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
ঠিকাদারের সঙ্গে করা চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার কোনো বিধান ছিল না, তবু অগ্রিম বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়; ওই অগ্রিম বিলের বিপরীতে যেসব ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছিল, বিল সমন্বয়ের আগেই সেগুলোও অবমুক্ত করে দেওয়া হয়।
প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের তৈরি ড্রইং বা ডিজাইন অনুসরণ করা হয়নি; বরং সরকারি ক্রয় বিধিমালার বাইরে গিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয় দ্বিতীয় একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে। এ ছাড়া অস্বাভাবিক দর বা ফ্রন্ট লোডিং থাকার পরও দরপত্র মূল্যায়নে পিপিআর ২০০৮-এর বিধান মানা হয়নি—এমন অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ মামলায় অন্য যাঁরা আসামি, তাঁরা হলেন—বেরোবির সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।