তিন-চার মাসে বিআরটি চালুর দাবি, বাতিলের বিরুদ্ধে ভোগড়ায় মহাসড়কে অবস্থান
ছবিঃ সংগৃহীত
তিন থেকে চার মাসের মধ্যে গাজীপুরের বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) চালুর দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। হাজার কোটি টাকা খরচ আর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর প্রকল্পটি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখন তা বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তাঁরা। ‘সচেতন নাগরিক ঐক্য, গাজীপুর’-এর ব্যানারে কর্মসূচিটি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান।
আলী নাছের খানের হিসাবে, বিআরটির কাজ বাকি আছে মাত্র ৩ শতাংশ। সেটুকু শেষ করে ১৮৭টি বাস কিনতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খরচ করলেই প্রকল্পটি পুরোপুরি দাঁড়িয়ে যায়।
তাঁর অভিযোগ, ঠিকাদার সিন্ডিকেট, ‘মুড়ির টিন’ সিন্ডিকেট পরিবহন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আর বিএনপির দুর্নীতিবাজ নেতারা আমলাতন্ত্রের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সচিবের একটি সিদ্ধান্তে, কোনো আলোচনা ছাড়াই প্রকল্পটি বাতিল করাতে চাইছেন।
আলী নাছের খান বলেন, প্রকল্পটি দাঁড় করাতে সময় লেগেছে ১৪ বছর, এখন ভাঙতে লাগবে আরও পাঁচ বছর। ভবিষ্যতে ছয় লেনের সড়ক বানানোর কথা বলা হচ্ছে; তাহলে তিন লেনে গাড়ি চলবে, বাকি তিন লেনে চলবে ভাঙার কাজ।
এর ফলে গাজীপুরবাসীকে আবার তীব্র যানজটে ভুগতে হবে বলে মনে করেন আলী নাছের খান। তিনি বলেন, অঞ্চলটি বিনিয়োগ হারাবে; স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালের মতো নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পথও আটকে যাবে। এতে নষ্ট হবে গাজীপুরের উন্নয়নের সম্ভাবনা।
সরকারের কাছে তাঁদের দাবি তুলে ধরে আলী নাছের খান বলেন, দরকারি সংস্কার সেরে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বিআরটি চালু করা হোক; তা না হলে তাঁরা ধারাবাহিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করবেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘র্যাপিড ট্রানজিট বিআরটি প্রকল্প বাতিলের মাধ্যমে আমাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার দাবি জানাচ্ছি। এই প্রকল্পের পেছনে সরকারের ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এটি ভাঙতে গেলে আরও অর্থ নষ্ট হবে। এজন্য সরকারকে গভীরভাবে চিন্তা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাই।’
আরেক অংশগ্রহণকারী মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা গাজীপুরবাসী দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। আরও কিছু সময় নিয়ে হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই আমাদের গাজীপুরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে এটি চালু হোক।’
প্রেক্ষাপট
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ১৪ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে বিআরটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়; হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিলোমিটার পথ এর আওতায়, আর এর মেয়াদ পাঁচ দফা বাড়ানো হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির অগ্রগতি, বাস্তবায়ন ও সম্ভাব্য সুফল নিয়ে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে বিশেষজ্ঞরা এর নকশা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কাঠামো নিয়ে মত দেন।
প্রেক্ষাপট সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ১৪ জুন ২০২৬