নির্বাচনব্যবস্থার আমূল সংস্কার চাইলেন স্পিকার, ১০ বছরেও হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না
ছবিঃ সংগৃহীত
ভোলা সার্কিট হাউসে আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলছে—আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিল, তখন সমাজের সৎ, ভালো ও নিরপেক্ষ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। তাই এখন নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।’
সামনের স্থানীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তাঁর মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া যেমন উচিত, তেমনি প্রয়োজনও। গত ১৭ বছরে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবেই হবে।
টাকাপয়সা না থাকলেও যাঁরা জনপ্রিয় এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য, তাঁদের প্রার্থী হওয়ার পথ খোলা রাখার কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ অর্থশালী বা বিত্তবান নন, কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা আছে এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাঁদের নির্বাচন করার মতো সুযোগ দেওয়া উচিত। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের নির্বাচন করার সুযোগ হয়।’
ভোলার খনিজ গ্যাসের সম্ভাবনার কথাও তোলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এ জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। এ গ্যাস সারা দেশের বর্তমানের রিজার্ভ সমান দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, ভোলায় আরও গ্যাসভান্ডার রয়েছে। ভোলার সাধারণ মানুষের গ্যাস প্রয়োজন। ভোলাবাসী অনেক দিন ধরে কষ্ট করছে। গ্যাস তো ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এই বিষয়ে আমি জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’
নিজের নির্বাচনী এলাকা লালমোহন-তজুমদ্দিনে তিন দিনের সফর শেষ করে বেলা সাড়ে ১১টায় স্পিকার ঢাকার পথে ভোলা ছাড়েন।
প্রেক্ষাপট
দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ১২ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার নির্বাচিত হন। ওই পদে তিনিই ছিলেন একমাত্র প্রার্থী; কণ্ঠভোটে প্রস্তাব পাস হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ পড়ান।
জেলার প্রেক্ষিত
পেট্রোবাংলার হিসাবে, ভোলার তিন গ্যাসক্ষেত্র—শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশায়—প্রায় ১ হাজার ৪৩২ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে, যার ২০০ বিলিয়ন ঘনফুটের কম এখন পর্যন্ত তোলা হয়েছে — প্রথম আলো ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর এ তথ্য জানায়।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহবাজপুরের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও ব্যবহার হচ্ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট; জেলার বাইরে গ্যাস নেওয়ার ব্যবস্থাও তখন ছিল না।
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১২ মার্চ ২০২৬; প্রথম আলো, ২৫ অক্টোবর ২০২৫