বাস-অটোরিকশায় আগুন ও বোমা হামলা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, শাহবাগের সমাবেশে রিজভী
ছবিঃ সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, সম্প্রতি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যে অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলা হয়েছে, তা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু তারা, যারা আগুন দিচ্ছে আর বোমা ছুড়ছে। প্রত্যেককে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রস্তুতও থাকতে হবে। রাজপথ ইজারা নেওয়া কারও সম্পত্তি নয়।
রিজভীর এসব বক্তব্য আসে বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বড় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের এ আয়োজন করে; পরিকল্পিত সন্ত্রাস চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানাতেই ছিল এ কর্মসূচি।
রিজভী বলেন, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ যে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে, ছাত্রদলের সমাবেশে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই তার প্রমাণ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন।
প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো, সেসব ঘটনার ছবি তোলা এবং প্রমাণ হিসেবে তা পাঠানোর নির্দেশনা ও অর্থ প্রতিবেশী দেশ থেকে ফোনকলের মাধ্যমে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার অপরাধীরা। রিজভী বলেন, এই পরিকল্পিত সন্ত্রাস পরিচালিত হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের একটি ফোন নম্বর থেকে, আর এতেই ষড়যন্ত্রের গভীরতা সামনে চলে আসে।
জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে সব সময় অগ্রাধিকার পায়—এ কথাও বলেন তিনি।
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সমাবেশে বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের দুঃশাসন ও দুর্নীতি জনগণ গত ১৭ বছরে দেখেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের উন্নয়নকে যেমন এগিয়ে নিচ্ছে, তেমনি রাজপথে ষড়যন্ত্রকারীদেরও সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করে চলেছে।
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ যখন সরকার করছে, ঠিক সে সময় জাতীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি স্বার্থান্বেষী মহল; অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা এ চেষ্টা করছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব; এতে যোগ দেন সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।