ছবিঃ সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সবচেয়ে বড় রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে জিতেছে ভারত। ক্রাইস্টচার্চে চার বছর আগে, ২০২২ সালে, শিখর ধাওয়ানের নেতৃত্বে খেলেছিল ভারত; বৃষ্টির কারণে সেবার সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে পরিত্যক্ত হয়েছিল। একই ভেন্যুতে এবার দুই দল নামল টি-টোয়েন্টিতে, বৃষ্টিও এবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
চার বছরে ভারতের দলে এসেছে অনেক বদল। ২০২২ সালের ওয়ানডে অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছেন; বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা বিদায় বলেছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও টেস্টকে। অভিষেক শর্মা, নামান ধীর, মায়াংক যাদব, তিলক ভার্মারা প্রথমবার খেলছেন নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে। কিউইদের মাঠে অভিষেক-তিলকদের প্রথম ম্যাচটি তাই স্মরণীয় হয়ে রইল ২২৬ রানের রেকর্ড রান তাড়া করে জয়ে।
আজ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২২৬ রানের লক্ষ্য ৪ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে ভারত। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের আগের সর্বোচ্চ রান তাড়ার জয় ছিল ২০২০ সালে অকল্যান্ডে; সেবার কিউইদের দেওয়া ২০৪ রানের লক্ষ্য তারা পেরিয়েছিল ৬ উইকেটে।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন; ৩৫ বলে আসে ৯৫ রানের জুটি। ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে অভিষেককে ফিরিয়ে সেই বিধ্বংসী জুটি ভাঙেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। বাঁহাতি এই ওপেনার ১২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ২৯ রান।
অভিষেক ফিরতেই ভারতের ইনিংসে ছোটখাটো ধস নামে; দেখতে দেখতে ১০.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১২২ রানে পরিণত হয় সফরকারীরা। এর মধ্যে ছিল বিস্ফোরক হয়ে ওঠা স্যামসনের উইকেটও—৩৩ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৭ রান করে মিচেল স্যান্টনারের বলে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। তিলক (৬) ও ইশান কিষাণ (১) ফেরেন এক অঙ্কের ঘরেই।
এই চাপ সামাল দেওয়ার ভার নেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেল। পঞ্চম উইকেটে দুজন ২৪ বলে যোগ করেন ৪৫ রান। এই জুটির পথে ব্যক্তিগত ১৩ ও ২৩ রানে দুবার জীবন পান অক্ষর, যদিও দুটি ক্যাচই নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারদের জন্য তুলনামূলক কঠিন ছিল। একবার তো স্যান্টনার বেশ ভালোভাবেই চোট পান, তবে তা বড় ক্ষতির কারণ হয়নি।
দুবার জীবন পাওয়া অক্ষরকে (২৪) শেষ পর্যন্ত ফেরান লকি ফার্গুসন। আইয়ার প্রায় ম্যাচ শেষ করেই ফিরছিলেন, কিন্তু তা আর হয়নি; ১৯তম ওভারের প্রথম বলে তাঁকে আউট করেন মিলনে। তাতে ভাঙে ষষ্ঠ উইকেটে নামান-আইয়ারের ২৩ বলে ৪৩ রানের জুটি। শেষ ১১ বলে দরকার ছিল ১৬ রান; ২ বল বাকি থাকতেই তা মিলিয়ে নেয় ভারত। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে হেনরিকে ছক্কা মেরে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন নামান।
১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩০ রান তোলে ভারত। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৭ রান করা স্যামসনই হয়েছেন ম্যাচসেরা। আইয়ারের সমান ৪২ রান এসেছে নামানের ব্যাট থেকেও; ১৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের স্যান্টনার ও ব্রেসওয়েল দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৫ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। ৪০ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৮২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন গ্লেন ফিলিপস, যা দলের সর্বোচ্চ। ভারতের মায়াংক, অক্ষর ও আর্শদীপ সিং একটি করে উইকেট নেন।
প্রেক্ষাপট
দুই দলের সর্বশেষ বড় লড়াই ছিল চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। টাইমস অব ওমানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারতের ২৫৫ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ড ১৫৯ রানে অলআউট হয়; ৯৬ রানে জিতে শিরোপা ধরে রাখে ভারত।
প্রেক্ষাপট সূত্র: টাইমস অব ওমান, ৮ মার্চ ২০২৬