হামের উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, নিশ্চিত হামসহ এ বছর প্রাণ গেল ১২০৭ জনের
ছবিঃ সংগৃহীত
হাম ও হামের উপসর্গে এ বছর দেশে মোট ১ হাজার ২০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১০৩ জন, যার দুজন মারা গেছে গত ২৪ ঘণ্টায়। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আজ বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব এতে রয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এই ২৪ ঘণ্টায় ৯৯৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে, আর পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৬ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে; নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ২৪৮ জন।
উপসর্গ নিয়ে এ বছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৯৬ জন। এরপর সিলেট বিভাগে ১৯৪, চট্টগ্রামে ১০২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৫, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব রাখা শুরু করে গত ১৫ মার্চ থেকে। তবে হাসপাতালে আসা সব রোগীর কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সবার হাম পরীক্ষা হয় না, তাই আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা বের করা কঠিন। অধিদপ্তরের হিসাবে মূলত হাসপাতালে আসা বা ভর্তি রোগীদের তথ্যই নথিভুক্ত হয়।
প্রেক্ষাপট
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ১ মে সাময়িকী সায়েন্সের একটি প্রতিবেদনের বরাতে জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা রোহিঙ্গা শিবিরে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে দ্রুত দেশের বহু জেলায় ছড়ায়।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্রে যাওয়ার পর টিকার মজুত ফুরিয়ে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হয়; ২০২৬ সালের এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনা চালু হয় এবং ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চঝুঁকির এলাকায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়।
সংখ্যার হিসাব
সরকারি তথ্যের বরাতে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছিল।
এক নজরে
একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুদের ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়।
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১ মে ২০২৬