টুপটুপ অগ্নিকাণ্ডের পর ইনানীতে নকশা অনুমোদনহীন ভবনে উচ্ছেদ শুরু
ছবিঃ সংগৃহীত
উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনের ঘটনার পর ওই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা সরাতে অভিযানে নেমেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সী-পাল হোটেলের দক্ষিণ পাশের একটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। নেতৃত্বে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি, সচিব (উপসচিব) সানজিদা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইনানীর ভবনটি পুরোপুরি অবৈধভাবে তোলা হচ্ছিল। ‘ভবনটিকে কেন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না’—এই মর্মে ২৬ সেপ্টেম্বর মালিকপক্ষকে নোটিশ দিয়েছিল কউক। কিন্তু তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ফলে সোমবার সকাল থেকে উচ্ছেদ শুরু হয়।
কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি বলেন, ধাপে ধাপে সব অবৈধ স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে।
উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আব্দুল্লাহর ভাষ্য, ভবনটির মালিক এসএস এন্টারপ্রাইজ। প্রায় এক বছর আগে এর নির্মাণ শুরু হয়, কাজ এখনো চলছে। ভবনটি হোটেল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে বলে শোনা গেলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কউক সূত্র বলছে, ভবন তোলার আগে কউকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নকশা অনুমোদন কিংবা নির্মাণের অনুমতি—কোনোটিই নেওয়া হয়নি। তাই ভবনের কাগজপত্র যাচাই ও নির্মাণকাজ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর অবৈধ অংশ সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
প্রেক্ষাপট
গত ১৭ অক্টোবর সকালে ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ জনের মৃত্যু হয়, যাঁদের সবাই পর্যটক — দ্য ডেইলি স্টার বাংলা সেদিন ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের বরাতে এ তথ্য জানায়।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ এবং ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়; ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না এবং চার মাস আগে কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল।
জেলার প্রেক্ষিত
খবর সংযোগের ১৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছিলেন, আগুনের কারণ খুঁজতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৭ অক্টোবর ২০২৬; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬; খবর সংযোগ, ১৭ অক্টোবর ২০২৬