৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ, ১১ দলের ঐক্য আরও বাড়বে বললেন মামুনুল
ছবিঃ সংগৃহীত
১১ দলের ঐক্য অটুট আছে, সামনে এর পরিধি আরও বাড়বে, কমবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে তাঁরা পা দেবেন না বলেও জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে বৈঠকে বসেন ১১ দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র মেরামত করার এবং হাজার হাজার শহীদের রক্তের যে দায়, সেই দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি। কাজেই আমরা কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো চক্রান্তের ফাঁদে পা দেব না।’
মামুনুল হকের মতে, ১১ দলের এই ঐক্যকে কেবল বিরোধী দলগুলোর জোট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। আগামী দিনের রাষ্ট্র কেমন হবে, সেই রূপরেখা ঠিক করার লড়াইয়ে তাঁরা একসঙ্গে আছেন। দেশের গতিপথ নির্ধারণ, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা আর ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করার এ লড়াইয়ে ঐক্য টিকে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘ধীরে ধীরে এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে, কমবে না।’
পরবর্তী কর্মসূচি জানাতে গিয়ে মামুনুল হক বলেন, ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ হবে।
দেশের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লংমার্চে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ের জন্যই এ কর্মসূচি। আগের দুটি লংমার্চের মতো এবারও ‘ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের’ মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সফল হবে বলে আশা তাঁদের।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চান মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ থেকে বাধা সৃষ্টি বা দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা চালানো হবে না বলে আমরা আশা করছি। তবে এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা দেখা গেলে তা প্রতিহত করেই কর্মসূচি সফল করা হবে।’
সরকারকে উদ্দেশ করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘জনগণের ক্ষমতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়ে জনগণের মনোভাব, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় পরিণাম ভালো হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান মামুনুল হক। ভোট নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা আস্থা রাখতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক বসিয়ে সরকার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার শীর্ষ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির মুখে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো কথা ‘অত্যন্ত আতঙ্কজনক’ বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক। এমন বক্তব্যে তাঁরা ‘স্তম্ভিত’ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেও জানান।
লংমার্চের পথে গোপালগঞ্জ পড়ছে—সেখানে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আশঙ্কা আছে কি না, সাংবাদিকেরা জানতে চান। জবাবে মামুনুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ থাকলে এমন আশঙ্কা দেখছেন না তাঁরা।
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক বহু মানুষ আছেন। লংমার্চের সময় তাঁরা বড় সংখ্যায় রাজপথে থাকবেন বলে আশা করছেন। কোনো দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হলে রাজপথেই তা মোকাবিলা করা হবে।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ৩১ অক্টোবরের খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকাল ১০টায় বৈঠকটি শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বৈঠকে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ অনেকে।
প্রেক্ষাপট
১১ দলীয় ঐক্য এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করেছে; ২১ নভেম্বর ঢাকা-সিলেট লংমার্চের পরিকল্পনাও জানিয়েছে জোটটি — প্রথম আলো ২৬ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের আট দফা দাবির মধ্যে আছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকটের সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ধাপে ধাপে ভোট হবে এবং ৬ জুনের মধ্যে ইউপি ভোট শেষ করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন — বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ১১ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
এক নজরে
বাংলা ট্রিবিউনের ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এ জোটে এনসিপি, এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ বিভিন্ন দল রয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: প্রথম আলো, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ১১ অক্টোবর ২০২৬; বাংলা ট্রিবিউন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬