রেশন কার্ড ফাঁকা, ডিমের কার্টন ৪৭০০ পেসো: বিপ্লবের দেশ কিউবায় ভরসা এখন গির্জা
ছবিঃ সংগৃহীত
খাবারের সংকট, ভেঙে পড়া চিকিৎসাব্যবস্থা, দিনের পর দিন বিদ্যুৎ নেই, আর দলে দলে মানুষ দেশ ছাড়ছে। একসময়ের বিপ্লবী রাষ্ট্র কিউবায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সেবা ও প্রশাসনিক কাঠামোও ধসে পড়ছে। রাষ্ট্রের রেশনব্যবস্থা কার্যত অচল, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ নেই, আর বহু এলাকায় মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে এগিয়ে আসছে গির্জা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো। দ্বীপরাষ্ট্রটি সরেজমিনে ঘুরে দ্য আটলান্টিক যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তাতে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিনের এই সংকট সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে।
১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর কিউবায় ক্ষমতা নেয় ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা আর অর্থনীতির বড় অংশ চলে যায় রাষ্ট্রের হাতে। কয়েক দশক পর সেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা আদৌ চলতে পারছে কি না, প্রশ্ন উঠছে এখন। দেশটির নানা অঞ্চলে মানুষের জীবনের যে ছবি দেখা যাচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রীয় সেবার ক্রমাবনতির পাশাপাশি সরকারের প্রতি জনসমর্থন কমে আসার ইঙ্গিতও মিলছে।
এই বদলের চেহারা প্রতিবেদক দেখেছেন পূর্ব হাভানার একটি পুরোনো গির্জায়। সেখানকার পুরোহিত ইভান গুয়েরা আলভারেজ জানান, বিপ্লবের পর গির্জার কনভেন্ট, আবাসিক এলাকা আর বিদ্যালয় দখল করে নেয় সরকার। সন্ন্যাসিনীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, একটি অংশে বসানো হয় নিরাপত্তারক্ষী। একসময় গির্জার কাজকর্মও প্রায় থেমে গিয়েছিল।
এখন পরিস্থিতি ঘুরছে। রাষ্ট্রের দখলে থাকা ঐতিহাসিক ভবনটি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে গির্জা। পুরোহিতের ধারণা, কিউবার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর দাবি, সরকারের বাইরে দেশটির সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিগুলোর একটি গির্জা।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন কবে, কীভাবে আসবে, তা অনিশ্চিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে জ্বালানি সরবরাহে বাধা দেওয়ার পদক্ষেপ দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে দেশের ভেতরে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কার্যকরভাবে সংগঠিত হওয়ার সুযোগও সীমিত।
কিউবার অর্থনৈতিক দুরবস্থা সবচেয়ে পরিষ্কার বোঝা যায় সাধারণ মানুষের আয় আর খাবারের দামে। একসময় রাষ্ট্রীয় রেশনব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কিছু মৌলিক খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করা হতো। কিন্তু গত আগস্টে দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদক দেশটিতে গিয়ে দেখেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে রেশন কার্ডে বরাদ্দের কোনো হিসাবই লেখা হয়নি।
সরকারি খাতের কর্মীদের গড় মাসিক বেতন প্রায় ৬ হাজার ৫০০ পেসো, যা ১০ ডলারেরও কম। চিকিৎসক আর শিক্ষকেরাও এই আয়ের মধ্যেই পড়েন। অথচ কোথাও কোথাও এক কার্টন ডিমের দামই উঠেছে ৪ হাজার ৭০০ পেসোতে। ফলে মাসের বেতনের বড় অংশ খরচ করেও একজন সরকারি কর্মীর পক্ষে পরিবারের দরকারি খাবার কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলাও ঝামেলার। কোনো কোনো ব্যাংকে একজন গ্রাহক দিনে তুলতে পারেন মাত্র ১ হাজার পেসো, যা দেড় ডলারেরও কম।
বিদ্যুৎ না থাকায় পূর্ব কিউবার অনেক জেলে মাছ রাখতে আবার পুরোনো কায়দায় ফিরে গেছেন—শুকিয়ে আর লবণ মাখিয়ে। রাজধানী হাভানাতেও লম্বা সময় বিদ্যুৎ থাকে না, তবে পূর্বাঞ্চলের অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা, যানবাহন কম, অনেক এলাকায় চলাচলের অন্যতম ভরসা ঘোড়ার গাড়ি।
গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক কিউবান বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে থাকতে পারেন। এতে বহু পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বহু বছর ধরে কমিউনিস্ট সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতেন ফিদেল কাস্ত্রো। বিদেশে চিকিৎসক পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও বৈদেশিক আয় বাড়ানোর চেষ্টাও করেছে সরকার। যদিও বিদেশে পাঠানো চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ ও স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনা আছে।
সেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন চিকিৎসক আর ওষুধের সংকটে ধুঁকছে। বহু চিকিৎসক দেশ ছেড়ে যাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ কমে গেছে।
সান্তিয়াগো দে কিউবার উপকূলের কাছে কায়ো গ্রানমা দ্বীপে প্রতিবেদকের দেখা হয় ৫৫ বছর বয়সী নার্স ক্লারা লুয়াসেসের সঙ্গে। দ্বীপের প্রায় ৮৭০ জন বাসিন্দার পাশাপাশি আশপাশের উপকূলীয় এলাকার অনেক মানুষের চিকিৎসার ভারও তাঁর কাঁধে। চিকিৎসকেরা দ্রুত দেশ ছাড়ায় রোগী কত আর দায়িত্ব কতটা, তা ঠিক করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্র বলতে ছোট্ট একটা কক্ষ। সেখানে জ্বরে ভোগা ১২ বছরের এক শিশুর হাতে লাগানো ছিল স্যালাইনের নল। পাশে মায়ের সঙ্গে বসে ছিল ত্বকের সংক্রমণে ভোগা আরেক শিশু।
লুয়াসেস জানান, প্রায় তিন মাস ধরে দ্বীপে পাইপলাইনে পানি আসছে না। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর ও ত্বকের সংক্রমণ বেড়েছে। ওষুধের টানাটানিও নিত্যদিনের সমস্যা। সামান্য সম্পদ নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে প্রায় অসম্ভব পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবের কথা তুলে তিনি জানান, অবসরে যাওয়ারও উপায় নেই তাঁর। কারণ, দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান্তিয়াগো দে কিউবায় ভিক্ষুকের সংখ্যা দেখে চমকে গেছেন প্রতিবেদক। সমুদ্রের ধারে তাঁর দেখা হয় ৭৬ বছর বয়সী এক নারী ও তাঁর মেয়ের সঙ্গে। দুজনই ছিলেন ভীষণ শীর্ণ। ওই নারী জানান, গত বছর ক্যানসারে তাঁর ছেলে মারা গেছেন। পরিবারে আয় করার মানুষ বলতে ছেলেই ছিলেন।
তারপর থেকে মা-মেয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করেন, প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে সামান্য টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেন। সরকারি কোনো সহায়তা তাঁরা পান না। তাঁদের বাসায় গিয়ে প্রতিবেদক দেখেন, ছোট একটা কক্ষে ধাতব খাটের ওপর বিছানার বদলে কার্ডবোর্ড পেতে ঘুমান তাঁরা। ঘরে একটা বাল্বও নেই।
এমন অবস্থায় সরকারের ওপর মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। একসময় কমিউনিস্ট সরকারের হয়ে তথ্য জোগাড় আর নজরদারিতে সক্রিয় ছিল বিপ্লব রক্ষার কমিটিগুলো। এখন স্থানীয়দের কাছে এসব কমিটির কথা জানতে চাইলে অনেকে হেসে ওঠেন। সরকারের সমালোচনা করতেও আগের মতো ভয় পান না তাঁরা।
বারাকোয়া সমুদ্রসৈকতে এক ব্যক্তির কথায় সেই ক্ষোভ ফুটে ওঠে। কমিউনিজম নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ফিদেল কাস্ত্রোকে কড়া ভাষায় গালাগাল করেন। প্রথমে আশপাশের লোকজন হাসলেও পরে তিনি আবেগে ভেঙে পড়েন। তাঁর কথায়, কিউবা যেন সময়ের মধ্যে আটকে গেছে, মানুষের কোনো আশা নেই; কিউবান হয়ে জন্মানোটাই তাঁর কাছে দুঃখের।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা অনেকেই নিজেদের দুরবস্থার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপাননি। কেউ কেউ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহে মার্কিন বাধার চেয়ে করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কাই বেশি ছিল। মহামারিতে কিউবার পর্যটনশিল্প মার খায়, বিদেশে থাকা স্বজনদের পাঠানো টাকার মূল্য আর প্রাপ্যতাও কমে যায়।
অবসরপ্রাপ্ত এক প্রকৌশলীর ভাষ্য, ভেনেজুয়েলার তেল সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছাতই না।
রাষ্ট্রীয় সেবার ফাঁক পূরণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা বাড়ছে। একসময় কিউবায় ক্যাথলিক ধর্মের প্রভাব ছিল ব্যাপক। বিপ্লবের পর সরকার নাস্তিকতাকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ বানায়, অনেক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বিশ্বাসীদের কাউকে কাউকে পাঠানো হয় পুনর্শিক্ষা শিবিরে।
এখন বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে ক্যাথলিক গির্জার পাশাপাশি ইভানজেলিক্যাল ও পেন্টেকোস্টাল গির্জা ছড়িয়ে পড়ছে। এক ধর্মযাজক জানান, বারাকোয়া অঞ্চলে গত তিন দশকে অ্যাসেম্বলি অব গডস সম্প্রদায়ের গির্জা দুটি থেকে বেড়ে ৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।
বারাকোয়ার পেন্টেকোস্টাল যাজক রাউল দে হেসুস মুনিওস মুন্ডার জানান, তাঁর মণ্ডলীতে নিয়মিত সদস্য প্রায় ১ হাজার ১০০ জন, তবে সাহায্য পান আরও অনেক বেশি মানুষ। প্রতি সপ্তাহে সহযোগী যাজকদের সঙ্গে বসে তিনি খোঁজ নেন কোন এলাকায় কে অসুস্থ, কার ঘরে খাবার নেই, কার ওষুধ দরকার। তারপর তাঁদের কাছে সাহায্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।
গত মে মাসে কিউবার জন্য ১০ কোটি ডলারের সহায়তা অনুমোদনের সময় ট্রাম্প প্রশাসন শর্ত দিয়েছিল, অর্থ বিতরণ হবে ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী ও মানবিক সংস্থার মাধ্যমে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক ভূমিকা আরও বেড়েছে। তবে কিউবায় ধর্মের এই পুনর্জাগরণ কেবল বিদেশি সহায়তার ফল নয়; রাষ্ট্রীয় সেবার অবনতিও এর বড় কারণ।
হাভানার একটি ক্যাথলিক বৃদ্ধাশ্রমে আবার দেখা গেছে, একসময় সরকারি চাকরি বা সামরিক বাহিনীতে কাজ করা মানুষও এখন অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অনেকের সন্তান বিদেশে। রাষ্ট্র আর পরিবার—দুই দিক থেকেই তাঁরা বিচ্ছিন্ন।
৬৫ বছর বয়সী এক সাবেক সেনাসদস্য অ্যাঙ্গোলায় দুই বছর যুদ্ধ করেছিলেন। তাঁর বাহুতে চে গুয়েভারার উলকি, যা ১৮ বছর বয়সে আঁকিয়েছিলেন। একসময় বিপ্লবের সমর্থক মানুষটি এখন দেশের অবস্থায় ক্ষুব্ধ। সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সংকটের আরেকটি দিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবক্ষয়। সান্তিয়াগো শহরের ৮১ বছর বয়সী এক সংগীতশিল্পী জানান, একসময় শহরের প্রায় প্রতিটি মোড়ে গানের দল দেখা যেত। ৪৫ বছর ধরে গানের সঙ্গে থেকেও সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না তাঁর।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা অনেকেই বলেছেন, কিউবা আগে এমন ছিল না। তাঁদের কথায় কেবল খাবারের সংকট, অসুখ আর বিদ্যুৎ না থাকার কথাই আসেনি; এসেছে ক্ষোভ, হতাশা আর জীবন থেকে আনন্দ ও প্রাণ হারিয়ে যাওয়ার কথাও।
দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদন শেষ হয়েছে সান্তিয়াগোর সান্তা ইফিজেনিয়া সমাধিক্ষেত্রের ছবি দিয়ে। ফিদেল কাস্ত্রোর দেহভস্ম রাখা আছে সেখানে। গোটা দেশের অবহেলা আর ভাঙাচোরা চেহারার উল্টো দিকে সমাধিক্ষেত্রটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, যত্নে সাজানো। সেখানে নিয়মিত সামরিক কায়দায় প্রহরী বদল হয়। কিউবার জাতীয় বীর হোসে মার্তির সমাধিসৌধের সামনে চলে সেনাসদস্যদের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজও।
গোছানো সেই আয়োজন দেখে এক মুহূর্তের জন্য মনে হতে পারে, বিপ্লবের স্বপ্ন এখনো অটুট। কিন্তু সমাধিক্ষেত্রের বাইরে বাতাসে ভেসে আসে পোড়া আবর্জনার কড়া গন্ধ। সেই গন্ধই যেন আজকের কিউবার প্রতীক—একদিকে বিপ্লবের স্মৃতি আর রাষ্ট্রীয় আচার, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষুধা, অসুখ, অনিশ্চয়তা আর বেড়ে চলা হতাশা।
প্রেক্ষাপট
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ৩ জানুয়ারির মার্কিন অভিযানের পর ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করে, এরপর মেক্সিকো থেকেও তেল আসা বন্ধ হয়ে যায় — আল জাজিরা ৩ আগস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
বোস্টন গ্লোবের ২০ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্কের হুমকি দিয়ে জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন মাস ধরে কোনো বিদেশি সরবরাহকারীর তেল কিউবায় আসেনি, আর দেশটি প্রয়োজনের মাত্র ৪০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করে — ওপিবি ২২ মার্চ এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
ওপিবির ২২ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ মার্চ কিউবার জাতীয় গ্রিড ভেঙে পড়ে, যা ছিল ওই মাসের তৃতীয় দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউট।
লোকাল ১০ নিউজের ৩ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শুরুর বিপর্যয়টি ছিল চলতি বছর কিউবার ষষ্ঠ দেশব্যাপী গ্রিড বিপর্যয়; ১৮ সেপ্টেম্বর আবারও পুরো গ্রিড ভেঙে পড়ে — সিপি২৪ সেদিন এ খবর দেয়।
কিউবার জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনইআই) হিসাবে, ২০২৫ সাল শেষে দেশটির জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৯৪ লাখে, এক বছর আগে যা ছিল ৯৭ লাখ — দ্য পেনিনসুলায় প্রকাশিত এএফপির ২২ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: আল জাজিরা, ৩ আগস্ট ২০২৬; বোস্টন গ্লোব, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; ওপিবি, ২২ মার্চ ২০২৬; লোকাল ১০ নিউজ, ৩ আগস্ট ২০২৬; সিপি২৪, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; দ্য পেনিনসুলা (এএফপি), ২২ জুলাই ২০২৬