লক্ষ্যের চেয়ে ১০০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন, ঝিনাইদহে ভালো ফলনের আশা
ছবিঃ সংগৃহীত
ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন সবুজ ধানের ঢেউ। চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কোনো কোনো মাঠে আগাম জাতের ধানে এরই মধ্যে পাক ধরেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা আর রোগবালাই কম হওয়ায় ভালো উৎপাদন ও ফলনের আশায় আছেন কৃষকেরা। গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি চলছে নতুন ধান ঘরে তোলার আগাম প্রস্তুতি।
জেলার কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সামনের কয়েক সপ্তাহ আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে পারেন। রোগবালাই দমন আর ধানের সঠিক যত্ন নিশ্চিত করতে প্রান্তিক কৃষকদের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দিচ্ছে জেলা কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আমন মৌসুমে জেলায় প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। কৃষকদের আগ্রহের কারণে বাড়তি ১০০ হেক্টরে আমন লাগানো হয়েছে, ফলে আবাদ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৬০০ হেক্টরে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ২৫২ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১৮ হাজার ৭৩৪ হেক্টর, শৈলকুপায় ২৪ হাজার ৯৪৫, হরিণাকুণ্ডুতে ১১ হাজার ২৩২, কোটচাঁদপুরে ৬ হাজার ১৮২ হেক্টর এবং মহেশপুরে ১৮ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আমন হয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়—২৫ হাজার ২৫২ হেক্টরে।
সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, এবার আমন লাগানোর সময় আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো পরিচর্যা পাওয়ায় খেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণও ছিল খুব কম। অতিবৃষ্টি বা বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ধানগাছও স্বাভাবিক আর সুস্থ ছিল। তাই এ মৌসুমে কৃষকেরা ভালো ফলনের আশা করছেন।
ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, মাঠে এখন শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে। কিছু জমির ধান এর মধ্যে কাটাও হয়ে গেছে। আরও কয়েক সপ্তাহ পর সব মাঠে কাটা শুরু হবে। এবার আবাদ ভালো হয়েছে, ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
হরিণাকুণ্ডুর সিংগা গ্রামের কৃষক লাল্টু মিয়ার মতে, ফলন ভালো হবে বলেই মনে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে হঠাৎ ঝড় বা দমকা হাওয়া না এলে ধানের ক্ষতির ঝুঁকি কম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই মাঠকর্মী ও কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করেছেন। এবারের আমন মৌসুমে আবহাওয়া ভালো ছিল, সারের জোগানও ছিল পর্যাপ্ত। সব মিলিয়ে কৃষকেরা এবার আমনে ব্যাপক ফলন পাবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। তাঁর ভাষায়, ঝিনাইদহের ধান স্থানীয় খাদ্যচাহিদা মিটিয়ে দেশের মোট চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারবে।
সংখ্যার হিসাব
জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের আমন মৌসুমে ঝিনাইদহে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১৫৫ হেক্টরে — জাগোনিউজ২৪ ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছর ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯২ হাজার ২০০ হেক্টর।
জেলার প্রেক্ষিত
২০২২ সালের আমন মৌসুমে খরায় ঝিনাইদহের আমনখেত ফেটে গিয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল — জাগোনিউজ২৪ ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে।
চলতি বছরের বোরো মৌসুমে জেলায় ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টরে আবাদ হয় — বাসস ২ মে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাসস
প্রেক্ষাপট সূত্র: জাগোনিউজ২৪, ১ সেপ্টেম্বর ২০২২; দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ৩০ নভেম্বর ২০১১; বাসস (ভিন্ন প্রতিবেদন), ২ মে ২০২৬