
ভর্তির প্রবন্ধে এআই কতটা, কোথায় থামবেন
ছবিঃ সংগৃহীত
পড়াশোনা আর লেখালেখিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন চেনা হাতিয়ার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনে এআই কতদূর ব্যবহার করা চলে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন আছে। কতটা সাহায্য নেওয়া যাবে, আর কোন পর্যায়ে গেলে তা নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার শামিল হয়ে দাঁড়ায়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাবনা গোছানো, তথ্য সাজানো আর লেখার ভুল শোধরাতে এআই কাজে লাগানো যায়। তবে নিজের অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা ও ভাষার বদলে এআইয়ের ওপর ভর করা ঠিক নয়।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভর্তির আবেদনের প্রবন্ধ লেখা বা সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বানিয়ে দেখাতে এআই ব্যবহার থেকে দূরে থাকা উচিত। প্রতিবেদনের তথ্য, ২০৩১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য হার্ভার্ড ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার আবেদন পড়তে পারে। অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, দুটি প্রতিষ্ঠানেই ভর্তির হার প্রায় ৫ শতাংশ।
কমান্ড এডুকেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার রিম এনডিটিভিকে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজখবর, বিভিন্ন শিক্ষাক্রমের তুলনা, আবেদনের সময়সীমা জানা আর প্রবন্ধের বিষয় নিয়ে প্রাথমিক ভাবনায় এআই সাহায্য করতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীর নিজের অভিজ্ঞতা, চিন্তা আর বিচার-বিবেচনার বিকল্প এটি হতে পারে না।
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিভাগের ডিন কারেন রিচার্ডসনের মতও একই। তাঁর কথায়, ভর্তি কর্মকর্তারা জানতে চান একজন শিক্ষার্থী কীভাবে ভাবেন, কেমন প্রশ্ন তোলেন, নিজের ভাবনা কতটা স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ লেখা বা সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা সাজাতে এআইয়ের ওপর নির্ভর করলে আবেদনকারীরা বিপদে পড়তে পারেন। এআইয়ে লেখা প্রবন্ধের ভাষা পরিপাটি হলেও তাতে শিক্ষার্থীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা, আগ্রহ, প্রেরণা ও চিন্তার ঠিকঠাক ছাপ না-ও পড়তে পারে। অথচ এগুলোই একজন আবেদনকারীকে আলাদা করে তোলে।
তাই হার্ভার্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন, কলাম্বিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে নিজের স্বকীয়তায় জোর দিতে হবে।
শুধু এআই দিয়ে ভাষা ঘষেমেজে একটা ভালো প্রবন্ধ দাঁড় করালেই যোগ্যতা প্রমাণ হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে শক্ত আবেদন তৈরি হয় দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক পড়াশোনা, সত্যিকারের আগ্রহ, দায়িত্বশীলতা এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও লক্ষ্যের স্পষ্ট বর্ণনা দিয়ে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
