ছবিঃ সংগৃহীত
‘ভারত ছাড়া’র সরকারি নির্দেশ নিয়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন মার্কিন নাগরিকত্বধারী বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। নোটিশটি চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে হাইকোর্টে তিনি যে রিট পিটিশন করেছিলেন, তার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চয়তা দিয়েছে—আগামী ২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা বলপ্রয়োগমূলক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এতে ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা বহিষ্কারের আদেশ থেকে সাময়িকভাবে রেহাই পেলেন।
ঘটনার শুরু ফরেনার্স আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) একটি নোটিশ থেকে। ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ইমরানকে তাতে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়। এফআরআরওর দাবি, গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেখানে তাঁর পদত্যাগ চাওয়া হয়েছিল।
আমেরিকান নাগরিক হয়েও সমাবেশে ইমরানের উপস্থিতি ভারতের নিয়ম ভেঙেছে—এমন অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে নালিশ করেন বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া। পুলিশ পরে অভিযোগটি এফআরআরওতে পাঠায়। তার ভিত্তিতেই অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর আওতায় অভিনেতাকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেয় সংস্থাটি।
ওই আইনের ৭ নম্বর ধারায় ভারতে থাকা যেকোনো বিদেশির প্রবেশ, অবস্থান ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ, সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া আছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
আদেশটির বিরুদ্ধে ১৭ অক্টোবর বোম্বে হাইকোর্টে যান ইমরান খান। আবেদনে তিনি দাবি করেন, ওই ধরনের কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি যাননি, আয়োজকদের সঙ্গেও তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। এফআরআরওর নোটিশকে তিনি ‘বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী, বিকৃত এবং চরম পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন। রিট দায়েরের পর এফআরআরও তাঁকে আরও একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁর ওসিআই মর্যাদা কেন বাতিল করা হবে না।
আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশনার কারণে ২ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির আগে ইমরান খানের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপে যাবে না প্রশাসন।
সূত্র: এনডিটিভি
প্রেক্ষাপট
বার অ্যান্ড বেঞ্চের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি ‘ইমরান খান পাল বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ নামে দায়ের হয় এবং আদালত মহারাষ্ট্র রাজ্যকেও পক্ষভুক্ত করতে বলেন।
জং-এর ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশক বিরতির পর ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’ ছবির মাধ্যমে ইমরান খান পর্দায় ফেরেন; ছবিটি ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি মুক্তির কথা ছিল।
এক নজরে
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট ২০২৫ কার্যকর হয় ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর; রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ওই বছরের ৪ এপ্রিল আইনটিতে সম্মতি দেন — অ্যাডাদেরানা ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে।
একই প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনটি ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৪৬ ও রেজিস্ট্রেশন অব ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৩৯-সহ চারটি পুরোনো আইনের জায়গা নিয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: বার অ্যান্ড বেঞ্চ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬; অ্যাডাদেরানা, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫; জং (ইংরেজি), তারিখ উল্লেখ নেই