
লন্ডনের মাটিতে প্রথম ‘চট্টগ্রাম উৎসব’, যোগ দিলেন চার সংসদ সদস্য
ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের রমফোর্ডের মেফেয়ার হলে গত ১ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ইউকে ২০২৬’। লন্ডনের মাটিতে এবারই প্রথম এমন উৎসবের আয়োজন করা হলো। চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলা এবং প্রবাসে থাকা চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও মজবুত করাই ছিল এর লক্ষ্য।
চট্টগ্রামের চারজন সম্মানিত সংসদ সদস্যের পাশাপাশি রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনেরা উৎসবে অংশ নেন। যুক্তরাজ্যের নানা শহর থেকে আসা বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর উপস্থিতিতে মুখর ছিল অনুষ্ঠানস্থল। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। মূল অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সুজন বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী রেজা ও মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। আর অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মিসেস রীনা দাস, নূরুন্নবী আলী ও শাহানা মালেক।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উৎসবে যোগ দেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম ও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। মাননীয় হাইকমিশনারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর মোরশেদুর রাহমান তালুকদার।
এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অনুষ্ঠানে ছিলেন আইওয়ান টিভির প্রধান নির্বাহী আতাউল্লাহ ফারুক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও এটিএন বাংলার ডেপুটি ইনচার্জ মো. মনজুর কাদের, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলমগীর, ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, কাউন্সিলর ফিরোজ গনি, শওকত মাহমুদ টিপু, মো. নাজিম উদ্দিন, এমডি খান জোনায়েদ, ক্যামডেন কাউন্সিলের সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলর নাছিম আলী ওবিই, মিসেস লিনা চৌধুরী, ড. শাহীদ চৌধুরী, জাগির আলম চৌধুরী, আরশাদ মালেক, অনুপম শাহ, মোহাম্মদ কায়সার, সুহেল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, হেলেন ইসলাম, মিরা বড়ুয়া, হাসান আনোয়ার, রায়হান উদ্দিন চৌধুরী টিটু, ওমর বাপ্পি ও নাবিল রহমান।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উৎসবে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন দানবীর ও বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা আলহাজ্ব সুফি মিজানুর রহমান, শিক্ষাবিদ প্রফেসর নূরুল নবী, বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা মির্জা সালমান ইস্পাহানি, দবিরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আতিক চৌধুরী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কাজী আবুল হোসেন বাবুল, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী, যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলমগীর এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ওয়াজিদ হাসান সেলিম বিইএম।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবীণদের জন্যও ছিল বিশেষ সম্মাননা। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আর কমিউনিটির প্রতি তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ আলমগীর, কামরুন নাহার বেগম, কফিল উদ্দিন, জাগির আলম চৌধুরী, গুলনাহার খান, উদয় শঙ্কর দাস, ইউসুফ মিয়া, সংযুক্তা বড়ুয়া ও লিলি বড়ুয়ার হাতে।
সম্মাননা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান রবি চৌধুরী গান পরিবেশন করলে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। দিনভর চট্টগ্রামের স্থানীয় শিল্পী ও কবিরা গান গেয়েছেন, কবিতা পড়েছেন। নাচ, মূকাভিনয়, ব্যান্ড সংগীত আর আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো-ও ছিল অনুষ্ঠানের অংশ। সঙ্গে ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা। চট্টগ্রামের মেয়ে এমির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ফ্যাশন শো সবার নজর কাড়ে।
উদ্যোক্তা ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী রেজা, মো. মাসুদুর রহমান ও সুজন বড়ুয়া জানান, চট্টগ্রাম উৎসব কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক আয়োজন নয়, বরং প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রয়াস। চট্টগ্রামভিত্তিক ষোলটি সামাজিক সংগঠন এই সম্মিলিত আয়োজনে সহযোগীর ভূমিকা পালন করে।
নতুন প্রজন্মের সামনে চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং প্রবাসী ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ খুলে দেওয়া—এগুলোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আয়োজকদের পক্ষে সুজন বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী রেজা ও মাসুদুর রহমান বলেন, সামনে আরও বড় পরিসরে এবং উন্মুক্ত স্থানে এ উৎসব করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী আয়োজনগুলোতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, বলি খেলা, আঞ্চলিক খাবার, লোকজ সংস্কৃতি ও সংগীত আরও গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হবে।
অনুষ্ঠানের একেবারে শেষভাগে চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬ কমিটি উৎসব সফল করতে সহায়তাকারী অতিথি, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা, সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষক, স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটির সদস্যদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়।
