
পাশের উপজেলায় ৩০ বস্তা ইউরিয়া পাচারের অভিযোগ, গুরুদাসপুরে দুই ডিলারকে শোকজ
ছবিঃ সংগৃহীত
পাশের উপজেলায় সার পাচারের অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুরে দুই সার ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। ডিলার গিয়াস উদ্দিন ও সিদ্দিকুর রহমান শাহকে বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম। তিনি জানান, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে দুই ডিলারকে জবাব দিতে বলা হয়েছে; জবাব সন্তোষজনক না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, এর আগে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে সার পাচার এবং সিদ্দিকুর রহমান শাহর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তখন জরিমানা দিয়ে ও মুচলেকা দিয়ে পার পেয়েছিলেন তাঁরা। এবার উঠেছে পাশের উপজেলায় সার পাচারের অভিযোগ।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার গিয়াস উদ্দিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের এক কৃষকের কাছে ১০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করেন। আর সিদ্দিকুর রহমান শাহর প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে।
আলাদা তিনটি অটোভ্যানে সারগুলো নিয়ে যাওয়ার পথে গুরুদাসপুর ও তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বিলবিয়াসপুর এলাকায় ভ্যানগুলো আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। পরে ৩০ বস্তা সার ও তিনটি অটোভ্যান জব্দ করা হয়।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, সার আটকের সময় ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি, তাই তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আটক ভ্যানচালকদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ক্যাশ মেমো পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার কারসাজি ঠেকাতে প্রশাসনিক তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে চলনবিলজুড়ে শুরু হয়েছে ছিটিয়ে বোনা সরিষা, বিনা হালে রসুন, ভুট্টাসহ নানা রবিশস্যের আবাদ। এর মধ্যেই গুরুদাসপুর উপজেলায় দেখা দিয়েছে সারসংকট। প্রতিদিন সারের জন্য ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্রে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন পড়ছে, তবু চাহিদামতো সার মিলছে না। ফলে চলতি মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা।
প্রেক্ষাপট
ইত্তেফাকের ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাশের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাতেও ডিলারদের কারসাজিতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল, ফলে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছিলেন কৃষকেরা।
যুগান্তর ৯ সেপ্টেম্বর জানায়, সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে দেশের ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়; চারজন জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং আরও চারজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: ইত্তেফাক, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; যুগান্তর, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
