
৪২ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ: সুইডেনে পূর্ণ বৃত্তিতে মাস্টার্সের সুযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত
সুইডেনে স্নাতকোত্তর পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি দিচ্ছে দেশটির সরকার। সুইডিশ ইনস্টিটিউট (এসআই) পরিচালিত ‘এসআই স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস ২০২৭’-এ আবেদন করতে পারবেন বিশ্বের ৪২টি দেশের শিক্ষার্থীরা, যে তালিকায় বাংলাদেশও আছে।
সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বা দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) প্রোগ্রামে পড়ার জন্য বৃত্তিটি দেওয়া হবে। নির্বাচিতরা পাবেন পুরো টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাত্রার খরচ ও ভ্রমণ ভাতা। সুইডিশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে চলা এই বৃত্তির লক্ষ্য দক্ষ পেশাজীবী ও ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব তৈরি করা।
এই বৃত্তির আওতায় নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা আছে—এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে আবেদনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
বৃত্তিতে যা মিলবে
⬤ স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের পুরো টিউশন ফি।
⬤ জীবনযাত্রার খরচ চালাতে প্রতি মাসে ১২ হাজার সুইডিশ ক্রোনা।
⬤ ভ্রমণের জন্য এককালীন ১১ হাজার থেকে ১৫ হাজার সুইডিশ ক্রোনা।
⬤ প্রোগ্রামের মেয়াদ অনুযায়ী এক বা দুই বছরের বৃত্তি; মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি অবশ্য বৃত্তির আওতায় পড়ে না।
যেসব বিষয়ে পড়া যাবে
উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে আছে গণিত, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, সামাজিক বিজ্ঞান ও আচরণবিজ্ঞান, ভেটেরিনারি মেডিসিন ও নার্সিং, চারুকলা, নকশা ও গণমাধ্যম, ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি, শিক্ষা ও শিক্ষাবিজ্ঞান, কৃষি, উদ্যানতত্ত্ব, বনবিদ্যা ও মাৎস্যবিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, আইন ও আইনবিষয়ক অধ্যয়ন, উপকরণ, নির্মাণ ও উৎপাদন, ধর্মতত্ত্ব ও ধর্মবিষয়ক অধ্যয়ন, প্রযুক্তি, মানবিক বিদ্যা, সমাজকর্ম ও সমাজকল্যাণ, সাংবাদিকতা, যোগাযোগ ও তথ্যবিজ্ঞান এবং ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞান।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
১. মোটিভেশন লেটার, অর্থাৎ আবেদনের উদ্দেশ্য জানিয়ে লেখা চিঠি।
২. হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)।
৩. সুপারিশপত্র।
৪. পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র।
৫. বৈধ পাসপোর্টের কপি।
কারা আবেদন করতে পারবেন
১. তালিকাভুক্ত ৪২টি দেশের যেকোনো একটির নাগরিক হতে হবে।
২. অন্তত ৩ হাজার ঘণ্টার কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৩. চাকরি, পেশাগত কাজ কিংবা সামাজিক সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৪. সুইডেনের নির্ধারিত যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে আবেদন করতে হবে।
আবেদনের ধাপ
বৃত্তির আবেদনের আগে প্রথমে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন করতে হবে। এর শেষ সময় ১৫ জানুয়ারি ২০২৭।
ভর্তির আবেদন জমা দিলে প্রার্থী একটি আবেদন নম্বর (অ্যাপ্লিকেশন নম্বর) পাবেন। এসআই বৃত্তির আবেদনে এই নম্বর লাগবে, তাই সেটি যত্ন করে রেখে দিতে হবে।
ভর্তির আবেদন শেষ হলে ৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সুইডিশ ইনস্টিটিউটের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে বৃত্তির আবেদন করতে হবে, সঙ্গে জমা দিতে হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। আবেদনের সময় ইনস্টিটিউটের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। বৃত্তির সুযোগ, যোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবেদনপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে সুইডিশ ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে।
আবেদনের সময়সূচি
১৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৭: সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন গ্রহণ।
১৩ নভেম্বর ২০২৬: এসআই বৃত্তির আবেদনসংক্রান্ত কাগজপত্র ও যোগ্য স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের তালিকা প্রকাশ।
৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: এসআই বৃত্তির অনলাইন আবেদন গ্রহণ। শেষ দিন সুইডিশ স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৫৯ মিনিটে পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাবে।
১ এপ্রিল ২০২৭: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফল প্রকাশ।
২২ এপ্রিল ২০২৭: এসআই বৃত্তির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ।
এক নজরে
অপরচুনিটিজ ফর ইয়ুথের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃত্তিটি পরিচালনা করে সুইডিশ ইনস্টিটিউট, যা সুইডেনের একটি সরকারি সংস্থা।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: অপরচুনিটিজ ফর ইয়ুথ, ২১ অক্টোবর ২০২৬
