
৩৪ বছরেও টিএসসি পায়নি শাবিপ্রবি, মাস্টারপ্ল্যান পড়ে আছে ফাইলে
ছবিঃ সংগৃহীত
মূল মহাপরিকল্পনায় নকশা ও আয়তন ঠিক করে দেওয়া থাকলেও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কাঙ্ক্ষিত টিচার্স-স্টুডেন্ট সেন্টার (টিএসসি) আজও হয়নি। প্রতিষ্ঠার পর সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় পার হলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে এক ছাদের নিচে সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা।
বিশ্ববিদ্যালয় মহাপরিকল্পনার (১৯৮৫-২০১৫) নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯২ সালের ৭ ও ৯ মে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছিল। সেই সভার সিদ্ধান্তে শাবিপ্রবির ৮ নম্বর মহাপরিকল্পনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ও একটি কেন্দ্রীয় অডিটরিয়াম নির্মাণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী টিএসসি হওয়ার কথা ছিল ১৮০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি চারতলা ভবনে। সেখানে থাকার কথা একটি আধুনিক সেমিনার রুম, ছোট মিলনায়তন, সমৃদ্ধ ক্যাফেটেরিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (শাকসু) কার্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য আলাদা রিহার্সেল রুম।
কিন্তু মহাপরিকল্পনার প্রায় সাড়ে তিন দশক পরও তা মাস্টারপ্ল্যানের ফাইলেই বন্দী। টিএসসি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডজনখানেক সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে খোলা আকাশের নিচে কিংবা ভবনের বারান্দায় কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
আগে বহুবার শিক্ষার্থীরা টিএসসি প্রতিষ্ঠার দাবি তুললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত টিএসসি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরাও।
শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব রিয়াজ হোসেন রিমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ টিএসসি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, টিএসসি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা থাকলেও প্রশাসনের অনাগ্রহের ফলে আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ টিএসসি প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।”
বিশ্ববিদ্যালয়কে কেবল সনদ পাওয়ার জায়গা মানতে নারাজ শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা না। এখানে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আসে। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সাথে আচার-আচরণ, কালচার ইত্যাদি আদান-প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক জায়গা। টিএসসি এই কাজের জন্য অন্যতম জায়গা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পর্যন্ত টিএসসি স্থাপন করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের কো-কারিকুলার বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজে অংশগ্রহণের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই ক্যাম্পাসে সবার জন্য টিএসসি প্রতিষ্ঠা করা দরকার।’
একই দাবি তুলে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, “একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণস্পন্দন হলো টিএসসি। টিএসসির মাধ্যমে ছাত্রশিক্ষকের একটি মেলবন্ধন তৈরি হয়। আর শাবিপ্রবি দেশের অন্যতম একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই এখানে টিএসসি প্রতিষ্ঠা জরুরি।”
টিএসসি নির্মাণ করে সব সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ বরাদ্দের দাবিও জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি থাকা দরকার। তবে চাইলেও কোনোকিছু হুটহাট করা যায় না। আমি জয়েন করেছি মাত্র কয়েকমাস হলো। তবে এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।’
প্রেক্ষাপট
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাবিপ্রবি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে, তবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯২ সালে।
এক নজরে
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অনুষদের ২৭টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২২ জানুয়ারি ২০২৩
