
এক রাতের অভিযানে কুমিল্লায় ২৯৯ জন আটক, মুচলেকায় ছাড়া ১৪০
ছবিঃ সংগৃহীত
মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ২৯৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা বুধবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একযোগে এ অভিযান চালান।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় যেখানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত, মাদক কারবার ও ছিনতাই বেশি, সেসব জায়গায় অভিযান চলে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে সরাসরি অংশ নেন।
অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পর আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ১৪০ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের হিসাবে, ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ অভিযানে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৮৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৯৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আর ৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে তুলে দেওয়া হয়েছে অভিভাবকদের জিম্মায়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অভিযান নিয়মিত চলছে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্য থেকেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে হত্যার পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী এ অভিযান শুরু হয়।
সংখ্যার হিসাব
ঢাকা টাইমস ২৭ সেপ্টেম্বর জানায়, অভিযানের প্রথম রাতে জেলার ১৮ থানায় ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছিল; তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনের হিসাবে, তখন পর্যন্ত পাঁচ ধাপের অভিযানে আটক হয়েছিলেন মোট ২ হাজার ৩৫ জন।
জেলার প্রেক্ষিত
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ৫ অক্টোবর জানায়, অভিযানে কোতোয়ালি, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তিনটি গ্যাংয়ের পাঁচ ‘মূলহোতা’কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া যায়।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৫ অক্টোবর ২০২৬; ঢাকা টাইমস, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৪ অক্টোবর ২০২৬
