
‘ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি দাও’: ইসলামে শ্রমিকের অধিকার
ছবিঃ সংগৃহীত
জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যমগুলোর একটি হলো শ্রম। নিজের মেধা, সময় আর শারীরিক শক্তি খাটিয়ে একজন শ্রমিক পরিবার ও সমাজে অবদান রাখেন। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই পরিশ্রমী মানুষদের ন্যায্য অধিকার প্রায়ই খর্ব হয়; সময়মতো পারিশ্রমিক না দেওয়া কিংবা চুক্তির চেয়ে কম মজুরি দেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে। ইসলাম কিন্তু শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
ইসলামে শ্রমকে সর্বোচ্চ সম্মানের কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘মানুষের জন্য তা-ই রয়েছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে।’ (সুরা নাজম: ৩৯)
এই আয়াত বুঝিয়ে দেয়, মানুষের প্রতিটি কাজ ও চেষ্টার আলাদা মূল্য আছে। কাজেই শ্রমিকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রত্যেক নিয়োগকর্তার নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
শ্রমিকের মজুরি যথাসময়ে পরিশোধের ব্যাপারে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন আমি নিজেই বাদী হব। তাদের একজন হলো, যে কোনো শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে নেয়, অথচ তার মজুরি দেয় না।’ (সহিহ বুখারি: ২২২৭)
আরেকটি সুপরিচিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৪৪৩)
নানা পেশার বহু মানুষ এখন দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভর করে সংসার চালান। এক দিনের পারিশ্রমিক আটকে গেলেই পুরো পরিবারে খাবার ও চিকিৎসার তীব্র সংকট দেখা দেয়। তাই কাজ শুরুর সময়েই মজুরি স্পষ্ট করা এবং সময়মতো তা পরিশোধ করা নিয়োগকর্তার দায়িত্ব। শ্রমিকের দায়িত্বও কম নয়—সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের ওপর দেওয়া কাজ করা। ইসলামি সমাজব্যবস্থায় মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষের অধিকারই সমানভাবে সংরক্ষিত।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
