
হাঁটতে বেরিয়ে আর ফেরেননি জেনিফার ও সেলাহ, কানাডায় গ্রিজলির হামলায় মা-মেয়ে নিহত
ছবিঃ সংগৃহীত
১ নভেম্বর বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এক মা ও তাঁর মেয়ে। পরে অনুসন্ধান অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তাঁদের মরদেহ; গ্রিজলি ভালুকের হামলায় মৃত্যু হয়েছে দুজনের। নিহতরা হলেন ৪৮ বছর বয়সী জেনিফার বালকারাস ও তাঁর ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলাহ রিড। তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পরিবার।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কনজারভেশন অফিসার সার্ভিস (বিসিসিওএস) জানিয়েছে, প্রদেশের বেলা কুলা এলাকার একটি হাঁটার পথের কাছ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো বন্য প্রাণী এতে জড়িত থাকতে পারে। জড়িত থাকতে পারে এমন ভালুকের খোঁজে কাজ করছেন বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, অনুসন্ধান চলাকালে সোমবার জেনিফার বালকারাসের এবং মঙ্গলবার সেলাহ রিডের মরদেহ পাওয়া যায়। কনজারভেশন অফিসারদের সঙ্গে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
বিসিসিওএসের পরিদর্শক জেফ টাইর বলেন, দুই নারীর মৃত্যুর পেছনে একাধিক ভালুক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কোনো ভালুক ধরা গেলে সেটিকে পরীক্ষা করা হবে। তদন্তে হামলায় কোনো ভালুকের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে প্রাদেশিক মানব-বন্য প্রাণী সংঘাত মোকাবিলার নির্দেশিকা অনুযায়ী জননিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে মেরে ফেলা হবে।
দুজনের ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরে জেনিফারের ভাই জশ বালকারাস কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসিকে বলেন, জেনিফার ও সেলাহ ছিলেন ‘একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’। তাঁদের সম্পর্ক ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ; একে অপরের সঙ্গে চমৎকার মিশতেন, অনেক শখের কাজও একসঙ্গে করতেন।
জশ বলেন, ‘জেনি যখন পাহাড়ি পথে হাঁটতে যেত, সেলাহ সব সময় তার পাশেই থাকত।’
শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। তহবিলের বিবরণে বলা হয়েছে, নতুন পেশা শুরু আর জীবনের নতুন অধ্যায় গড়ার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বেলা কুলায় এসেছিলেন জেনিফার।
কানাডার কেন্দ্রীয় আইনে গ্রিজলি ভালুক ‘বিশেষ উদ্বেগের প্রজাতি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত। এনভায়রনমেন্টাল রিপোর্টিং বিসির তথ্য বলছে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই প্রাণী।
প্রাদেশিক পরিবেশ, ভূমি ও পার্ক মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার গ্রিজলি ভালুক আছে। প্রজাতিটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেও শ্রেণিভুক্ত করেছে মন্ত্রণালয়। তাদের ভাষ্য, ভালুক ও মানুষের মধ্যে সংঘাত তুলনামূলক বিরল; তবে ভালুক হঠাৎ ভয় পেলে বা নিজের শাবক ও খাবার রক্ষার চেষ্টা করলে এমন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গ্রিজলির হামলায় হতাহতের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ম্যাকগ্রেগর মাউন্টেন এলাকায় গ্রিজলির হামলায় দুজন পর্বতারোহী আহত হন; তাঁদের একজন গুরুতর আঘাতে পরে মারা যান। পরে ভালুকটিকেও মৃত পাওয়া যায়।
এর পরের মাসেই, অর্থাৎ ২০২৫ সালের নভেম্বরে, বেলা কুলা এলাকাতেই স্কুলশিক্ষার্থীদের একটি দলের ওপর ভালুক হামলা চালায়; আহত হন ১১ জন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডলাইফ ফেডারেশন (বিসিডব্লিউএফ) জানিয়েছে, ২০১৭ সালে প্রদেশে শখের বশে গ্রিজলি শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে গ্রিজলি ভালুক ও মানুষের সংঘাতের খবর বেড়েছে। সে সময় সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক জেসি জেমান বলেছিলেন, ‘শিকারের কোনো চাপ না থাকলে গ্রিজলি ভালুক ও মানুষ ক্রমেই একই এলাকায় বসবাস করবে। এর অনিবার্য পরিণতি হিসেবে সংঘাতের ঘটনা ঘটবে।’
প্রেক্ষাপট
সিপি২৪-এর ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলা কুলায় স্কুলশিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর ওই হামলার পর ধরা পড়া চারটি গ্রিজলি ভালুকের সঙ্গে হামলার কোনো যোগসূত্র পাননি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কনজারভেশন অফিসাররা।
এক নজরে
বার্তা সংস্থা এপির ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলা কুলা ভ্যানকুভার থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: সিপি২৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৫; এপি (এবিসি৭), ২১ নভেম্বর ২০২৫
