
১২ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র খুলেছে ইউএস-বাংলা, গ্রাউন্ড সার্ভিসে আসছে ১৪৬টি নতুন সরঞ্জাম
ছবিঃ সংগৃহীত
যাত্রীসেবা, গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা আর ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে প্রায় ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউএস-বাংলা জানায়, এখন তাদের হাতে থাকা ৫৯০টি গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্টের সঙ্গে যোগ হবে আরও ১৪৬টি সরঞ্জাম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হবে ৮০টি বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি)।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে অবস্থান আরও মজবুত করতে এগোচ্ছে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বহরে উড়োজাহাজ আছে ২৫টি।
আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বহরে আরও ২১টি বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালাচ্ছে এয়ারলাইনসটি; আরও প্রায় ১৬টি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য যোগ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে মিল রেখে গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট যেন পর্যাপ্ত থাকে, সেদিকে জোর দিচ্ছে ইউএস-বাংলা। আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ১৪৬টি নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে।
নতুন সরঞ্জামের তালিকায় আছে এয়ারক্রাফট পুশব্যাক ট্র্যাক্টর ও টোবার, ব্যাগেজ বেল্ট লোডার, ব্যাগেজ ট্র্যাক্টর, যাত্রী বোর্ডিং সিঁড়ি, গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট, এয়ার স্টার্ট ইউনিট, ক্যাটারিং ট্রাক, পানি ও ল্যাভেটরি সার্ভিস ট্রাকসহ নানা র্যাম্প সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষ পরিচালনা কেবল উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে না; আধুনিক গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্ট, দক্ষ মানবসম্পদ ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনাও এর অপরিহার্য অংশ।
চট্টগ্রাম ও সিলেটে আঞ্চলিক হাব গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড সাপোর্টও বাড়ানো হচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলব্যবস্থা গড়তে সরকারের বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প উন্নয়ন নীতির সঙ্গে মিল রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০টি বৈদ্যুতিক যানবাহন চালানোর পরিকল্পনা করেছে ইউএস-বাংলা। এসব যানবাহনের চার্জিং অবকাঠামো বসানোর কাজ চলছে।
ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, ওশেনিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য চার্জিং স্টেশন বসানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে যেসব বিমানবন্দরের নাম এসেছে, তার মধ্যে উত্তর আমেরিকায় আছে নিউইয়র্কের জেএফকে, লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি, আটলান্টা, শিকাগো, ডালাস, টরন্টো পিয়ারসন ও কুইবেক সিটি; ইউরোপে আমস্টারডাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট, ম্যানচেস্টার, লন্ডন হিথ্রো ও ইস্তাম্বুল এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল, দোহা হামাদ, আবুধাবি, জেদ্দা ও রিয়াদ।
পূর্ব এশিয়ার বেইজিং ক্যাপিটাল, টোকিও নারিতা, হংকং, ম্যাকাও ও সিউল; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর ও ব্যাংকক; দক্ষিণ এশিয়ার দিল্লি ও ব্যাঙ্গালোর; ওশেনিয়া অঞ্চলের ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনি; লাতিন আমেরিকার সান্তিয়াগো ও বোগোটা এবং আফ্রিকার নাইরোবি ও জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরেও চার্জিং স্টেশন রয়েছে।
ইউএস-বাংলার ভাষ্য, অবকাঠামো প্রস্তুত হলে বিমানবন্দরের নানা গ্রাউন্ড অপারেশনে বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার করে জ্বালানিনির্ভরতা ও স্থানীয় পর্যায়ের কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে। এতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গ্রাউন্ড অপারেশন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়তে সরকারের নানা উদ্যোগ দেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের বিমান চলাচল শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে তুলতে কাজ করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
প্রেক্ষাপট
দৈনিক ইনকিলাবের ২৯ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার ঘোষণা দেয় ইউএস-বাংলা। এর মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ও ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, যেগুলো ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বহরে আসার কথা।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব, ২৯ জুলাই ২০২৬
