
৯ নভেম্বর মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভা, শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান মালিকদের
ছবিঃ সংগৃহীত
চলমান আন্দোলন-বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের কাজে ফিরতে এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসও দিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার রাজধানীর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
নতুন গঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা হয়ে গেছে বলে জানান তাঁরা। মজুরি পুনর্বিবেচনার কাজ শেষ করতে ওই সভায় একটি সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নেতাদের দাবি, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার মজুরি পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত এগোচ্ছে। বোর্ডের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কারখানামালিকেরা নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়ন করবেন।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের ভাষ্য, মজুরি বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রথম সভা হয়েছে, যা দেশের শ্রম ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রথম সভার মাত্র চার দিন পর, আগামী ৯ নভেম্বর বোর্ডের দ্বিতীয় সভার দিন ঠিক হয়েছে। এতে শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তিতে সরকারের আন্তরিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি।
শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা চলতে থাকলে তা শ্রমিক, পোশাকশিল্প ও জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন হাতেম। শ্রমিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।
কোনো কোনো স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বলেন পোশাকশিল্পের নেতারা। তাঁদের মতে, তাতে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তির চলমান উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কাছে কয়েকটি প্রস্তাবও দিয়েছে বিকেএমইএ। এর একটি হলো শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা, যাতে মজুরি বাড়ার সুযোগ নিয়ে বাড়ির মালিকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াতে না পারেন।
বাকি প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে পোশাকশ্রমিকদের জন্য রেশনিং সুবিধা বা ফ্যামিলি কার্ড চালু, শিল্পাঞ্চলে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং প্রধান শিল্পকেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন বা ডরমিটরি নির্মাণ।
নেতারা বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও মজুরিসংক্রান্ত সমস্যার টেকসই সমাধানে সরকার, মালিকপক্ষ এবং দায়িত্বশীল শ্রমিক সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করছে।
শ্রমিকদের ধৈর্য ধরতে, মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমে আস্থা রাখতে এবং স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে অবিলম্বে যার যার কর্মস্থলে ফিরে যেতে আহ্বান জানান তাঁরা।
তাঁদের ভাষ্য, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে মজুরি বোর্ড নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করতে পারবে। এতে শ্রমিক ও মালিক দুই পক্ষ এবং জাতীয় অর্থনীতি—সবার জন্যই ইতিবাচক ফল মিলবে।
প্রেক্ষাপট
জাগো নিউজের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
ঢাকা টাইমস ১ নভেম্বর জানায়, ওই দিন সচিবালয়ে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সংখ্যার হিসাব
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: জাগো নিউজ, ১ নভেম্বর ২০২৬; ঢাকা টাইমস, ১ নভেম্বর ২০২৬; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২৬ নভেম্বর ২০২৩
