ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য পারচেসিং কনসোর্টিয়াম, ২০২৭ সালে ঢাকায় বড় পরিসরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বিজনেস সামিট করবে বিবিসিসি
ছবিঃ সংগৃহীত
• ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য পারচেসিং কনসোর্টিয়াম গড়ার উদ্যোগ
• লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে ২০২৭ সালে ঢাকায় বড় আকারে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বিজনেস সামিট করার পরিকল্পনা নিয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি কোয়ালিশন (বিবিসিসি)। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে একটি পারচেসিং কনসোর্টিয়ামও গঠন করা হবে। দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, যৌথ বিনিয়োগ, সরবরাহব্যবস্থায় অংশীদারত্ব এবং নতুন বাজারে ঢোকার সুযোগ তৈরি করাই এর লক্ষ্য।
গত রোববার (২৫ অক্টোবর) লন্ডনে বিবিসিসি ও হোপস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘অ্যান ইভনিং উইথ হোপস ফাউন্ডেশন—বিজনেস, ফিলানথ্রপি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান করে। সেখানেই এসব পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। যুক্তরাজ্যের নানা খাতের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, সমাজসেবী ও কমিউনিটি নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
হোপস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এনায়েতউদ্দিন খান কায়সার ছিলেন প্রধান অতিথি। বিবিসিসির সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল শুকুর খালিসাদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শিরাজ হক, হোপস ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক উপাচার্য ড. এম. আফজাল হোসেইন এবং সংস্থাটির উপদেষ্টা মুস্তাফিজুর রহমান। নেক্সট স্টেজ ইভেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মাহমুদও বক্তব্য দেন।
এনায়েতউদ্দিন খান জানান, বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরিতে কাজ করবে হোপস ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশে সংস্থাটি তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেয়। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের রেস্তোরাঁ ও সেবা খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা সফল, এর বাইরে খুচরা ব্যবসাসহ নানা খাতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক উদ্যোক্তা ও নারী উদ্যোক্তা আছেন। তাঁদের সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ গড়ে উঠলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে ব্যবসা বাড়ানো এবং পণ্যে মূল্য সংযোজনের সুযোগ বাড়বে বলে তাঁর ধারণা।
বিবিসিসির সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল শুকুর খালিসাদার বলেন, পারচেসিং কনসোর্টিয়ামের মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট ও স্বতন্ত্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সম্মিলিত ক্রয় প্ল্যাটফর্মে আনা। এতে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে বড় উৎপাদক, পাইকার ও সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য কেনার সময় তুলনামূলক ভালো দাম ও অনুকূল বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারবে। তাঁর ভাষ্য, খুচরা ব্যবসা, আতিথেয়তা ও খাদ্যপণ্য বিতরণসহ নানা খাতে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই বাড়তি খরচ ও প্রতিযোগিতার চাপে পড়ছে। তাদের কেনাকাটার চাহিদা এক জায়গায় আনা গেলে বেশি পরিমাণে কেনার সুবিধা মিলবে। একা যে প্রতিষ্ঠানের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত, একজোট হলে তারাই বড় বাণিজ্যিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
খালিসাদার আরও জানান, যুক্তরাজ্যে হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা বাড়াতে চায়। আবার বাংলাদেশে বহু বড় শিল্পগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠিত করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা আছে। দুই পক্ষকে মেলানো গেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সামনে নতুন ব্যবসার সুযোগ খুলবে।
বিবিসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বি-টু-বি) বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়তে যুক্তরাজ্য থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় আসার পরিকল্পনাও আছে। ২০২৭ সালের সামিট শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন বিবিসিসি ট্রাস্টি শেলিনা আখতার, রুটস অব ওয়েলনেস সিআইসির রাজনা আল ফারহাদি, বিজুয়েলড বাই আমিরাহর তানিয়া চৌধুরী, গহনা লন্ডনের জাসমিন রহমান, ফেন্টি ফ্যাশনের ফাতিমা খাতুন, শেফালি বিউটিকের আফিয়া শারমিন এবং এলবিটিএইচ টাউন সেন্টার ম্যানেজার ব্রিজেট গ্যালোওয়ে। স্থানীয় ব্যবসা সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে বৃহত্তর ব্যবসায়ী সমাজের সম্পর্ক আরও মজবুত করার দরকারের কথা বলেন ব্রিজেট গ্যালোওয়ে।
প্রশ্নোত্তর ও আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যবসায়িক উদ্যোগ আর সমাজকল্যাণমূলক কাজ একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। এমন অংশীদারত্ব যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন তাঁরা।
সংখ্যার হিসাব
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার — ইউএনবি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউএনবির একই প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯১৫ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৮৮২ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: ইউএনবি, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬