যাত্রাবাড়ীতে জিহাদ হত্যা: তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আনিসুল ও মামুনকে কারাগারে পাঠাল আদালত
ছবিঃ সংগৃহীত
তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জিহাদ হোসেন (২২) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
বুধবার রিমান্ডের মেয়াদ ফুরালে পুলিশ দুজনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
খবরটি নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখার কর্মকর্তা, পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাঈন উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তখন তাঁদের রিমান্ডে নিতে পারেননি। রিমান্ড কার্যকরের অনুমতি চেয়ে গত ১৪ অক্টোবর তিনি আদালতে আবেদন করলে আদালত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তা কার্যকর করতে বলেন। এরপর রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে রিমান্ডে নেন তদন্তকারী কর্মকর্তা, আর মেয়াদ শেষে আজ আদালতে তোলা হয়।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলার সময় রাজধানীর শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন জিহাদ হোসেন। সেখানেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটিতে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মামলা করেন নিহতের বাবা নুরুল আমিন মোল্লা; তাতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
প্রেক্ষাপট
প্রথম আলোর ২০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনিসুল হক গ্রেপ্তার হন ১৩ আগস্ট এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার হন ৩ সেপ্টেম্বর। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, যাত্রাবাড়ী থানার জিসান হত্যা মামলাতেও আনিসুল হক ও মামুনসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল এবং আদালত সেদিন তা মঞ্জুর করেন।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: প্রথম আলো, ২০ জানুয়ারি ২০২৫